খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
ঈদের পরও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত। চলতি মাস এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন (১০৫ কোটি) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ ১২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৫৯ দশমিক ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। ফলে মার্চের শেষ দিকে ও এপ্রিলের শুরুতে প্রবাসী আয় বেড়ে যায়। তবে ঈদের পর এই প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে আসে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গড়ে দৈনিক ১০৯.৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২.৬৪ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে প্রবাসীরা ১.৯৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন। সেই তুলনায় চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৬৪% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগের মাস, ফেব্রুয়ারিতেও দেশে ২.৫৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
ব্যাংকারদের মতে, মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানো।
তাদের মতে, অফিশিয়াল ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বাড়ার পাশাপাশি হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক পথে নির্ভরতা কমে যাওয়াও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, ‘খোলা বাজারে অস্থিরতার কারণে, প্রবাসীরা এখন অফিসিয়াল চ্যানেলগুলি ব্যবহার করতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত আগস্ট থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকলে বার্ষিক মোট রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।’
খবরওয়ালা/এসআর