জাবিতে থিসিস ফলাফলে ‘অনিয়ম’: প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের, বিভাগের বিবৃতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে থিসিস মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগটিকে ‘চক্রান্তমূলক ও মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চার দফা দাবিতে বিভাগের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে একই দাবিতে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

তাদের দাবি, অভিযোগকারী সাজিদ ইকবালের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আফসানা হকের এ ঘটনায় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তৃতীয় পরীক্ষক নির্ধারণে ড. আফসানা হকের সংশ্লিষ্টতা নেই মর্মে বিভাগীয় বিবৃতি প্রদান, সাজিদ ইকবালের থিসিসের উন্মুক্ত মূল্যায়ন আজকের মধ্যেই তিন পরীক্ষকের মাধ্যমে সম্পন্ন, গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করে তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সাজিদ ইকবালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ কী হবে তা লিখিতভাবে জানানো।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গণিত ও পদার্থ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে।

অন্যান্য সদস্যরা হলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা এবং সদস্যসচিব হিসেবে আছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) ড. এ বি এম কামরুজ্জামান। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউআরপি বিভাগ এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভাগটি গত ছাব্বিশ বছর ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত ১৯ মার্চ বিভাগের এক প্রাক্তন ছাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফেসবুক’ ও বিভিন্ন পত্রিকায় তার থিসিস মূল্যায়ন নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছেন তা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর।

অভিযোগকারী বলেন, কমিটির বাইরের একজন শিক্ষককে ২য় ও ৩য় পরীক্ষক করে তার থিসিস নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে ৮ম সেমিস্টারে ফলাফলে কারসাজি করা হয়েছে।

তবে বিভাগীয় বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষাবিধি অনুযায়ী এমন কিছু করার সুযোগ নেই। প্রমাণ ছাড়াই এমন অভিযোগ প্রচার করায় বিভাগের শিক্ষক, বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বিভাগীয় সকল শিক্ষকবৃন্দ অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাজিদ ইকবাল অভিযোগ করেন, বিভাগের কয়েকজন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার চূড়ান্ত ফলাফলে ধস নামানো হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রথম থেকে সপ্তম সেমিস্টার পর্যন্ত তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮১, অথচ ৮ম সেমিস্টারের ছয় ক্রেডিটের থিসিসে ‘বি+’ (৩.২৫) দিয়ে তার ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে নিচে নামানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মো. শফিক-উর-রহমান, সহযোগী অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আফসানা হক।

 

খবরওয়ালা/আরডি

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।