খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
চীনের একটি বিমান সংস্থার জন্য প্রস্তুতকৃত নতুন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ চূড়ান্ত সরবরাহের আগেই ফিরে গেল যুক্তরাষ্ট্রে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ এবং পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বোয়িংয়ের প্রধান কারখানায় অবতরণ করেছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে বিমানটি সেখানে নামে। চীনের জিয়ামিনএয়ারের জন্য তৈরি এই উড়োজাহাজটির গায়ে এখনো প্রতিষ্ঠানটির লোগো ও নাম দেখা যাচ্ছে।
বিমানটি ঝৌশানে বোয়িংয়ের কারখানায় চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর্যায়ে ছিল। সেখান থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি ফিরে আসে যুক্তরাষ্ট্রে। পথে এটি গুয়াম ও হাওয়াইয়ে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বিরতি দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে। এর পাল্টা জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
বিশ্লেষক সংস্থা আইবিএ জানায়, একটি নতুন ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে এই বিমান সরবরাহ অর্থনৈতিকভাবে চীনা সংস্থার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে উড়োজাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার পক্ষ থেকে এসেছে—বোয়িং না জিয়ামিনএয়ার—সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় প্রতিষ্ঠানই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
দীর্ঘদিন শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগকারী বৈমানিক শিল্প এখন বাণিজ্য বিরোধে পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। অনেক বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে।
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/আরডি