খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ‘আওয়ামীপন্থি’ ৬ জন আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এ আদেশ দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া আইনজীবীরা হলেন কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি মুস্তাফিজুর রহমান লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সাবেক এপিপি এএনএম মঈন, অ্যাডভোকেট জিয়াউল হাসান চৌধুরী সোহাগ, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
এর মধ্যে সোহাগ ও মঈন পলাতক রয়েছেন, বাকি চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিঙ্কু জানান, মামলাটিতে ২৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় কুমিল্লার আদালতের ২৬ জন আইনজীবীর নাম যুক্ত করা হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়া এসব আইনজীবীর মধ্যে ২৪ জন জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার পুনরায় নিম্ন আদালতে হাজির হন। আদালত ছয়জনের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং বাকি ১৮ জনকে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে জামিন দেন।
মামলাটি দায়ের করা হয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি, যেখানে বাদী হিসেবে নাম উল্লেখ রয়েছে কুমিল্লা সদর উপজেলার ডুমুরিয়া চান্দপুর গ্রামের মো. ইনজামুল হক রানা। তিনি গত বছরের ৩ আগস্ট কুমিল্লা পুলিশ লাইনস এলাকায় শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর হামলার অভিযোগে মামলাটি করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে।
আদালত প্রাঙ্গণে শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা ও আন্দোলনকারীরা। তারা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। শুনানি শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের দিকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়।
খবরওয়ালা/আরডি