খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে এনবিআর ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে রাজস্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, আগামীকাল বুধবার (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং ১৫ ও ১৭ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এনবিআরের আওতাধীন সব দপ্তরে কলম বিরতি পালন করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা, রপ্তানি এবং বাজেট প্রক্রিয়া এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান অফিস ত্যাগ করতে গেলে আন্দোলনকারীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এনবিআরের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা অভিযোগ করেন, ‘রাজস্ব সংস্কার পরামর্শক কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে হঠাৎ করে রাতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় না এনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মে) রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দেন। এর মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয় দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন কাঠামোয় রাজস্ব খাত এখন থেকে দুটি ভাগে পরিচালিত হবে—‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রয়োগ, কর আহরণ পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নীতিগত তত্ত্বাবধান করবে। অপরদিকে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রশাসনিক কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। এ বিভাগের বিভিন্ন পদে অ্যাডমিন ক্যাডারের পাশাপাশি কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তারাও নিয়োজিত থাকবেন।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এনবিআরের বর্তমান জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্থানান্তর করা হবে। এদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে। একইভাবে, বিলুপ্ত অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)-এর জনবল নতুন নীতি বিভাগে ন্যস্ত হবে।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনবিআরের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। কর্মকর্তারা এটিকে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান ও ক্যাডারভিত্তিক অভিজ্ঞতাকে অবমূল্যায়ন করার একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
খবরওয়ালা/আরডি