খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত আপাতদৃষ্টিতে থেমেছে মনে হলেও উত্তেজনার আগুন ময়দান থেকে যেন এখনো নেভেনি। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে উসকে উঠছে জাতীয়তাবাদ, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে চড়াও হচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক তাপমাত্রা। এমন উত্তেজনাকর প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটছে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেপ্তার হলেন এক ভারতীয় ট্রাভেল ব্লগার জ্যোতি মালহোত্রা ওরফে জ্যোতি রানী। পাকিস্তানের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে শনিবার (১৭ মে) হরিয়ানার হিসার জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। গ্রেপ্তার জ্যোতি ২০২৩ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। হরিয়ানার বাসিন্দা জ্যোতির ইউটিউবে একটি চ্যানেল রয়েছে, নাম— ‘ট্রাভেল উইথ জো’। সেখানে মূলত ভ্রমণের ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। তার সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচরদের কাছে তথ্য পাচার করার একটি চক্র ভারতে তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এই চক্র মূলত পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় সক্রিয় ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ জ্যোতিসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্তে ওঠে এসেছে, জ্যোতি ২০২৩ সালে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ওই সময়েই নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত অভিযোগে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানি কর্মকর্তা দানিশকে ভারতে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দানিশের মাধ্যমেই পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল জ্যোতির।
ভারতীয় তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভারতের বিভিন্ন স্থানের সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানিদের কাছে পাচার করতেন জ্যোতি মালহোত্রা। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে তিনি পাকিস্তানি গুপ্তচরেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের পরিচয় গোপন রাখতে মোবাইলে অন্য নামে সেই নম্বরগুলো সেভ করতেন জ্যোতি। তার মধ্যে ‘জাট রানধাওয়া’ নামে একটি নম্বর সেভ করা ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই নম্বরটি আসলে পাকিস্তানি গুপ্তচর শাকির ওরফে রানা শাহবাজের।
সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুসারে, এক পাকিস্তানি গুপ্তচরের সঙ্গে তার ‘ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি হয়েছিল বলেও তদন্তকারী দল সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। জ্যোতি যখন বালি এবং ইন্দোনেশিয়া ঘুরতে গিয়েছিলেন, সেই সময়ে তার সঙ্গে এক পাকিস্তানি গুপ্তচর ছিলেন বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
ভারতশাসিত কাশ্মিরের পেহলেগামে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে ভারতীয়দের যোগাযোগের বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে এসেছে। গত কয়েক দিনে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ওই অভিযুক্তদের সঙ্গে ইউটিউবার জ্যোতির কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন