খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের নতুন স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ আবারও বিস্ফোরণে পরিণত হয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে তৃতীয়বারেও। মঙ্গলবার (২৭ মে) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে রকেটটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ৩০ মিনিট পরই রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং মহাকাশে অপ্রত্যাশিতভাবে ছিটকে পড়ে।
স্টারশিপের এটি ছিল নবম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। যার উদ্দেশ্য ছিল স্পেসএক্সের সর্ববৃহৎ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাই করা। যদিও প্রাথমিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এটি সফলতার মুখ দেখেনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, মহাকাশে জ্বালানি লিকের কারণে রকেটটি ঘূর্ণায়মান অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। এরপর এটি ‘র্যাপিড আনসিডিউলড ডিসেম্বলি’-র শিকার হয়, যার অর্থ হলো — রকেটটি আকাশেই ভেঙে পড়ে বা বিস্ফোরিত হয়।
স্পেসএক্স মঙ্গলবার (২৭ মে) তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, ‘এ ধরনের পরীক্ষায় সাফল্য মানে আমরা কী শিখলাম। আজকের ফ্লাইট আমাদের স্টারশিপকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে সাহায্য করবে। কারণ স্পেসএক্সের লক্ষ্য হলো মানবজাতিকে বহুপ্লানেটারি করা’।
বিস্ফোরণের আগে ৪০৩ ফুট বা ১২৩ মিটার উচ্চতার এই মেগা-রকেটটি আগের ব্যর্থ উৎক্ষেপণগুলোর চেয়ে অনেকটা দূর অতিক্রম করেছিল। তবে এটি মার্চ ৬ তারিখের আরেকটি টেস্ট ফ্লাইটের মতোই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পরেই স্টারশিপ বিস্ফোরিত হয়েছিল।
এরপর স্পেসএক্স ও ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) যৌথ তদন্তের পর গত ২২ মে স্পেসএক্সকে ফের উৎক্ষেপণের অনুমতি দেয়।
সংস্থাটি জানায়, ‘রকেটের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে কয়েকটি হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করা হয়েছে’।
এদিকে স্টারশিপের সর্বশেষ এই (৯ম) উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। এটি উৎক্ষেপণ করা হয় স্পেসএক্সের প্রধান ঘাঁটি স্টারবেস থেকে। যেটি টেক্সাসের বোকা চিকা শহরে অবস্থিত।
স্টারশিপ হচ্ছে স্পেসএক্সের ভবিষ্যতের মঙ্গলগ্রহ অভিযানের মূল যান। এটি পৃথিবী ছাড়াও চাঁদ, মঙ্গল কিংবা আরও দূর গন্তব্যে মানুষ ও পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে।
তবে সম্প্রতি টানা তিনটি ব্যর্থতা স্পেসএক্সের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। বিশেষ করে যখন সংস্থাটি ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে ফের মানুষ পাঠানোর জন্য নাসা’র আস্থা অর্জন করতে চাইছে।
এখন স্পেসএক্সের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— কেন বারবার এ ধরনের ধ্বংস বা বিচ্ছিন্নতা ঘটছে, তা শনাক্ত করে আগামী উৎক্ষেপণগুলো আরও নিরাপদ ও সফল করে তোলা।