খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির আজ চতুর্থ দিন (বৃহস্পতিবার, ২৯ মে)। তিন দফা দাবিতে দেশজুড়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষক। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠচ্যুত হয়ে পড়েছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিশু শিক্ষার্থী।
দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষকদের আন্দোলনে সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার চাকা কার্যত থেমে গেছে। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে এলেও ক্লাস হচ্ছে না। শিক্ষকরা স্কুলে থাকলেও শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত। শিশুরা স্কুল আঙিনায় সময় কাটাচ্ছে খেলা-আড্ডায়।
এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের দাবির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষক নেতাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং আজই প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় চৌধুরীর সঙ্গে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিন দফা দাবি কী?
১. সহকারী শিক্ষক পদকে অ্যান্ট্রি পদ ধরে বেতন গ্রেড ১১তম নির্ধারণ।
২. ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন।
৩. শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা ও দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি।
বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম হলেও সহকারী শিক্ষকরা রয়েছেন ১৩তম গ্রেডে। এই বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।
তিনি বলেন, “সরকার আমাদের তালিকা চাইলেও কখন কোথায় বসা হবে, তা স্পষ্ট করেনি। আমরা আজও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছি। আশ্বস্ত না হলে আন্দোলন চলবেই।”
৫ মে থেকে এক ঘণ্টা কর্মবিরতির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্ধদিবস ও সর্বশেষ ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবসে রূপ নেয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে সহকারী শিক্ষক সাড়ে তিন লাখ। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষকই এই কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক শিক্ষককে শোকজও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজকের সম্ভাব্য বৈঠক থেকে যদি ইতিবাচক বার্তা না আসে, তবে আন্দোলন আরও কঠিন দিকে মোড় নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এখন দেখার বিষয়, সরকার পরিস্থিতি সমাধানে কতটা দ্রুত ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়।
খবরওয়ালা/ এমএজেড