খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
দেশজুড়ে কিছুটা বৃষ্টি হলেও কমছে না গরমের তীব্রতা। ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ জনজীবন। এরই মধ্যে দেশের ৪৯টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। যেন আগুন ঝরানো দিনে একফোঁটা বৃষ্টি হয়ে উঠেছে বাউলের গানের মতো আশার সুর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নীলফামারীর ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনীসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু কিছু এলাকায় তা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, মৌসুমী বায়ু এখনো বাংলাদেশের ওপর তেমন সক্রিয় নয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এর উপস্থিতি দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই বৃষ্টির ছোঁয়ায় কোথাও কোথাও সামান্য স্বস্তি মিললেও দেশের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা রয়ে যাবে প্রায় অপরিবর্তিত। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) থেকে রবিবার (১৫ জুন) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও তাপপ্রবাহ কমার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। তবে সপ্তাহান্তে কিছুটা তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার ও রবিবার (১৪ ও ১৫ জুন) দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও ঢাকায় বৃষ্টির ঘনঘটা বেশি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে।
তবে এখনই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার মতো পরিস্থিতি নয়। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মঙ্গলবার (১০ জুন) থেকে বুধবার (১১ জুন) সকাল পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল টাঙ্গাইলে, ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে রাঙামাটিতে, ৭৫ মিলিমিটার।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়বে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে এখনো তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা নেই।
রোদের এই রুদ্ররূপে যখন জনজীবন কাহিল, তখন আকাশে ভেসে বেড়ানো প্রতিটি মেঘ যেন শান্তির প্রতিশ্রুতি। আর প্রতীক্ষিত বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা হয়ে উঠতে চায় বাউলের সেই সুর, যা ধরণীর গায়ে ছড়িয়ে দেবে স্নিগ্ধতা আর স্বস্তি।
খবরওয়ালা/আরডি