খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি সরকারই আঞ্চলিক শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এরদোয়ান ইসরায়েলের আক্রমণ ও মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও দৃঢ় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলে রক্তাক্ত সীমান্ত এঁকে নতুন সাইকস-পিকো বাস্তবায়ন হতে দেবো না।’
শনিবার (২১ জুন) ইস্তাম্বুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫১তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এরদোয়ান এ কথা বলেন। বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
সাইকস-পিকো চুক্তি ছিল ১৯১৬ সালে গ্রেট ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিজ নিজ প্রভাব বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে করা হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনার নতুন ধাপ শুরুর আগে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তাকে ‘আলোচনা নস্যাৎ করার অপচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু সরকার প্রমাণ করছে, তারা অঞ্চলটিতে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।’
গাজায় চলমান মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ ২১ মাস ধরে বেঁচে থাকার লড়াই করছে।’
ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ইরানি জনগণ ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে এই কঠিন সময়ও অতিক্রম করবে।’
গাজা ছাড়াও সিরিয়া, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের ‘ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ প্রতিহত করতে মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিরিয়াকে আবারও ওআইসির পরিসরে স্বাগত জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘সিরিয়ার ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি ও টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য পুরো ইসলামি বিশ্বকে সহায়তা করতে হবে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় আর কোনো আক্রমণ মেনে নিতে পারি না।’
খবরওয়ালা/এন