পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নৈশপ্রহরী হত্যাকাণ্ডে সন্দেহের জেরে ৭ পরিবারের ১০টি ঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অসহায় হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীরা। ঘটনার দুই সপ্তাহ পরও তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বৃদ্ধ মরিচ গ্রামে। ভুক্তভোগীরা জানান, ১০ জুন সকালে তারা সকালের রান্না শেষ করে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ১০-১২ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। মারধরের পর বাড়ি থেকে নারীদের বের করে দিয়ে একে একে সাত পরিবারের ১০টি ঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, চাউল, ফসল এমনকি গবাদি পশু পর্যন্ত।
গত ৯ জুন রাতে উপজেলার চন্ডিপুর আলিম মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী ওসমান গণি মোল্লা (৬২)-কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার ঘটনায় শাহাদত হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তার পরিবারের ৭ পরিবারের উপর এ অমানবিক হামলা চালায় উত্তেজিত এলাকাবাসী।
পুলিশ তদন্তে হত্যাকাণ্ডে শাহাদতের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়। পরে নিহত ওসমান গণি হত্যার মূল আসামি হিসেবে হাবিব (১৪) এবং আহমদ উল্লাহ (১৫)-কে আটক করে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রবিউল করিম বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৩ জন নামীয় ও ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রবিউল করিম বলেন, “সেদিন প্রাণ নিয়ে বের হলেও আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে বাস করছি।”
অপর ভুক্তভোগী লাইলী খাতুন বলেন, “আমাদের পরিবারের একজন সন্দেহের তালিকায় থাকলেও পরে তো আসল খুনি ধরা পড়েছে। তাহলে আমাদের কি দোষ? আমরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।”
ক্ষতিগ্রস্থ নুরুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, “এখন রাতে মানুষের বাড়ি বাড়ি থাকি, দিনে ভাঙা ঘরের সামনে বসি। প্রশাসন যেটুকু সাহায্য করেছে তা যথেষ্ট নয়, আমাদের পুনর্বাসন দরকার।”
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “হত্যা মামলার মূল দুই আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভাঙচুর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ নাজমুন নাহার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্থদের শুকনো খাবার, এক বান্ডিল টিন ও নগদ অর্থ সহযোগিতা করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে তাদের পুনর্বাসনে চেষ্টা করবো।”
খবরওয়ালা/এমএজেড