খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরে স্থগিত হয়ে গেল ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা বিএনপির সম্মেলন। বুধবার (২৫ জুন) সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের ঝিলটুলীতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে কার নাম রাখা হবে, তা নিয়েই শুরু হয় টানাপড়েন। আলোচনায় উঠে আসে দুজন নেতার নাম—জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসা এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এই দুজনই ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
সভা সূত্রে জানা গেছে, কোন পক্ষই ছাড় দিতে রাজি হননি এবং প্রস্তুতি কমিটিও সমাধানে ব্যর্থ হয়। ফলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় এবং সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ নান্নু। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রশিদুল ইসলাম লিটন, তানভীর চৌধুরী রুবেল, অ্যাডভোকেট মামুন উর রশীদসহ পাঁচজন। কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম লিটন জানান, প্রধান অতিথি নির্ধারণে একমতে পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টি এখন বিভাগীয় বাস্তবায়ন টিমকে জানানো হয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন। সদস্যরা হলেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুক ও সেলিমুজ্জামান সেলিম।
এদিকে জেলার অন্যান্য থানা বিএনপির সম্মেলন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যদিও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা, মহানগর, কোতোয়ালি ও উপজেলাসহ সব ইউনিটে সম্মেলন শেষ করে জেলা সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কিবরিয়া স্বপন বলেন, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে।
মোদাররেস আলী ঈসা ও চৌধুরী নায়াব ইউসুফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, “ফরিদপুরে বেশিরভাগ জায়গাতেই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন হয়েছে। কোতোয়ালিতে হয়তো অতিথি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে।”
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দিনভিত্তিক ডেলিগেট ভোটে নেতা নির্বাচনের পরিবর্তে এবার কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে ‘সমঝোতা’ভিত্তিক কমিটি প্রকাশ হতে পারে।
এ নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও গুঞ্জন চলছে। পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন অনেকেই। অভিযোগ আছে, অতীতে সরকারপন্থিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন ‘হাইব্রিড’ নেতারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদ দখল করেছেন। কেন্দ্রীয় টিমের নেতা আসাদুজ্জামান ইতোমধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে দলটিতে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়নের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে বিএনপির ফরিদপুর ইউনিটে সম্মেলন ঘিরে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড