সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অতিরিক্ত বাড়ানো হলে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার (৫ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বাড়িয়ে দিলে সবাই সেখানে বিনিয়োগ করবে, ব্যাংক আর কেউ টাকা রাখবে না। অথচ ব্যাংকেও তারল্য ধরে রাখার বিষয় আছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। যদি সবাই সঞ্চয়পত্র কিনে ফেলে, তাহলে ব্যাংকের কাছে টাকা আসবে কোথা থেকে?’
গত ৩০ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এতে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮% এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২% নির্ধারণ করা হয়।
নতুন হারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নির্ভর করবে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি মুনাফা পাবেন, আর যারা এই সীমার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাদের মুনাফার হার কম হবে। গড়ে প্রতি লাখে প্রায় ৫৭ টাকা মুনাফা কমিয়ে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘খারাপ ব্যাংকগুলো পুনর্বাসনে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। ইসলামী ব্যাংক তার একটি উদাহরণ। সেখানেও আবার আস্থা ফিরছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, কোনো আমানতকারীর টাকা নষ্ট হবে না। একটু দেরি হতে পারে, কারণ অনেকে টাকা নিয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়েই নজিরবিহীন।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট অস্থিরতা প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘ওই সমস্যার সমাধানে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে। ইতোমধ্যে একটি পাঁচ সদস্যের শক্তিশালী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যেন বারবার দপ্তরে যেতে না হয়, সে জন্য সব ধরনের ছাড়পত্র কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
খবরওয়ালা/আরডি



