খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া একটি জার্মান গোয়েন্দা বিমানকে লক্ষ্য করে লেজার হামলা করেছে চীন। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউরোপে চীনের প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এ ঘটনায় ইউরোপে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, চীনা সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এএসপিআইডিইএস অভিযানে অংশ নেওয়া একটি জার্মান গোয়েন্দা বিমানকে লক্ষ্য করে লেজার ব্যবহার করেছে। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বার্লিনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।
একটি বিবৃতিতে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জার্মান কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা এবং অভিযানে বাধা সৃষ্টি করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
জার্মান ম্যাগাজিন স্পিগেল জানিয়েছে, ঘটনার সাথে যুক্ত বিমানটি একটি ভাড়াকৃত জার্মান গোয়েন্দা বিমান ছিল। জুলাইয়ের প্রথম দিকে এটি ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি চীনা যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট)-এর কাছাকাছি চলে গেলে এই হামলা ঘটে।
জার্মান সূত্র থেকে জানা গেছে, সাধারণভাবে এমন পরিস্থিতিতে চীনা ফ্রিগেটের ক্রুদের জরুরি যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে বিমানটির সাথে যোগাযোগ করা উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা না করে সরাসরি লেজার ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক সামরিক আচরণের বিপরীত।
এই ঘটনার পেছনে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। এএসপিআইডিইএস মিশন, যা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য গঠন করা হয়েছে, সেখানে জার্মান সামরিক বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য অংশ নিয়েছে। হুথিরা গাজায় ‘ইসরায়েল’-এর যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ঘটনার পর চীনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিষয়ক নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করছে।
জার্মান সংসদ গত জানুয়ারিতে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই মিশনে জার্মানির অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
খবরওয়ালা/আরডি