খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদভক্তদের দাপট থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই গর্জন নিস্তব্ধ করে দিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। খেলার শুরু থেকেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ৪-০ গোলে জয়ের মাধ্যমে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা।
খেলার মাত্র ৯ মিনিটেই দুই গোল হজম করে ঘোরে পড়ে যায় জাবি আলোনসোর নতুন রিয়াল। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্লাবটি। শুরু থেকেই এলোমেলো পারফরম্যান্স আর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে বেসামাল রিয়াল যেন পিএসজির বাস্তবতা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখেছে। ফ্যাবিয়ান রুইজ করেন দুটি গোল, উসমান দেম্বেলে ও গঞ্জালো রামোস একটি করে গোল করেন লুইস এনরিকের দলটির হয়ে।
সেমিফাইনালে রিয়াল ডিফেন্সের নতুন ভরসা ডিন হুইজসেনকে পায়নি কার্ডজনিত কারণে। ম্যাচ শুরুর আগে ইনজুরির কারণে ছিটকে যান ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ডও। এই ঘাটতি দারুণভাবে ভোগায় পাঁচবারের ক্লাব বিশ্বকাপজয়ীদের। থিবো কোর্তোয়া শুরুতে দুইটি দুর্দান্ত সেভ করলেও, পরক্ষণেই ডিফেন্ডারদের ভুলে সুযোগ পায় পিএসজি। ম্যাচজুড়ে ৬৯ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল পিএসজির, শট নেয় ১৭টি যার ৭টি লক্ষ্যে। বিপরীতে রিয়াল ১১টি শট নিলেও মাত্র ২টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে।
রিয়াল-পিএসজির সেমিফাইনাল নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট দেরিতে শুরু হয় যানজটের কারণে। তবুও সাদা জার্সিধারী রিয়াল সমর্থকদের উত্তেজনায় ঠাসা ছিল মেটলাইফ স্টেডিয়াম। বিরুদ্ধ আবহে খেলতে নেমেও রুইজ-দেম্বেলে-কাভারৎস্খেলিয়া-হাকিমিরা সেটি থোড়াই কেয়ার করলেন। ৬ষ্ঠ মিনিটে ম্যাচে প্রথম লিড নেয় পিএসজি। রিয়ালের সেন্টারব্যাক রাউল অ্যাসেনসিও পেনাল্টি স্পটের কাছে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দেম্বেলের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারান। কোর্তোয়া তাকে কড়া ট্যাকেল করলেও রুইজকে খুঁজে নেন দেম্বেলে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বল জালে জড়াতে ভুল করেননি।
মিনিট তিনেক বাদে রিয়ালের খলনায়ক বনে যান অ্যান্টনিও রুডিগার–ও। সতীর্থকে বলটি তিনি ঠিকঠাক বাড়াতেই পারলেন না। তার দুর্বলতায় দেম্বেলে পেছন থেকে ছুটে গিয়ে আড়াআড়ি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২৪তম মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। দুর্দান্ত গতিতে রিয়ালের রক্ষণ ভেঙে আশরাফ হাকিমির চমৎকার পাস পেয়ে যান রুইজ। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন, নাগাল পাননি গোলরক্ষক কোর্তোয়া। পুরো প্রথমার্ধে একেবারে তটস্থ ছিল রিয়াল। বলের নিয়ন্ত্রণও ঠিকঠাক রাখতে পারছিল না, পজেশন ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।
বিরতির পর কিছু বুঝে ওঠার আগে মিনিট দুয়েকের মাথায় আবারও গোল হজম করে রিয়াল। কিন্তু দেজিরে দুয়ে’র করা গোল অফসাইডে কাটা পড়ে। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা পিএসজি এরপর দেম্বেলে-কাভারাৎস্খেলিয়াকে তুলে নেয় ৬০ মিনিটের আগে। তবুও সেভাবে কার্যকর কিছু করতে পারছিল না রিয়াল। লুকা মদ্রিচ শেষবারের মতো এবং গত অক্টোবরের পর প্রথমবার মাঠে নামলেন দানি কারভাহাল। তবুও ৮৮ মিনিটে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকে পিএসজি। বদলি নামা গঞ্জালো রামোস ডি-বক্সের ভেতর জোরালো শটে দলের চতুর্থ গোল করেন। এরপর উদযাপনে স্মরণ করেন তার স্বদেশি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোতাকে।
বড় জয়ে প্রথমবার ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল মাসখানেক আগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী লুইস এনরিকের পিএসজি। এবার এই স্প্যানিশ কোচের সামনে আরও একটি মেজর ট্রফি জয়ের ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে। এর আগে তিনি বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ২০১৬ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিলেন। চলমান এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে পিএসজির প্রতিপক্ষ একবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসি। আগামী রোববার তারা শিরোপা নির্ধারণী মহারণে মুখোমুখি হবে।
খবরওয়ালা/এন