খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
গাজীপুরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় অসুস্থ স্ত্রী সালমা বেগমকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী মোস্তফা কামাল। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম ধীরাশ্রম ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছ।
মোস্তফা কামালের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায়। জানা গেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি বসতঘরের মেঝেতে মরদেহ রেখে পাশেই বসে ছিলেন। পরে স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্বজন জানান, ধীরাশ্রম ফুলবাড়িয়া গ্রামের করম আলীর মেয়ে সালমার সঙ্গে বছর দশেক আগে মোস্তফা কামালের বিয়ে হয়। সালমা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। গত বুধবার রাতে অসুস্থ সালমা চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলায় মোস্তফা ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে মরদেহের পাশে বসে থাকেন।
পাশের কক্ষে থাকা মেয়ের ডাকে আশপাশের মানুষ এসে মোস্তফাকে দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু তিনি দরজা খুলছিলেন না। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে মোস্তফা বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে মাইরা ফেলছি। দরজা খুললে আপনারা আমারে মাইরা ফেলবেন।’ কিছু সময় পর তিনি দরজা খুলে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা সালমাকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এরই মধ্যে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
নিহত সালমা বেগমের মেয়ে মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘রাতে হঠাৎ মা চিৎকার করে বলতে থাকেন– মর্জিনা বাঁচা, আমারে মাইরা ফেলল। আমি পাশের রুম থেকে চিৎকার শুনে দ্রুত বের হয়ে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করি। কিন্তু বাবা দরজা খোলেনি। এর পর এলাকার লোকজনকে ডেকে আনি। তারা এসে আমার মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আমার মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, সালমা বেগমের মেয়ে মর্জিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মোস্তফা কামালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ