খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের ঘটনার চার দিন পর মামলার প্রধান আসামি মো. কামাল হোসেন ওরফে কামাল মাঝিকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই রাত দেড়টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুরের একটি গ্রামে ঘরের সিঁধ কেটে প্রবেশ করে কামাল মাঝিসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এ সময় গৃহবধূ তার দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকেই তারা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। চিৎকার করলে সন্তানদের গলায় দা ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর কামাল মাঝি ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় তাকে ভয় দেখিয়ে বলানো হয় যে, তিনি নিজেই কামালকে ডেকে এনেছেন। ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে ভিডিও ভাইরাল করে সন্তানদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে চুলের মুঠি ধরে তাকে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সিঁধ কাটার স্থানে মাটি দিয়ে ভরাট করতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল, তবে তাদের চেনেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পরদিন, ১০ জুলাই ভুক্তভোগী নারী ভোলা সদর মডেল থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। বুধবার (১০ জুলাই) তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তায়েবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার পর অভিযুক্ত কামাল মাঝিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর আনন্দ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভোলা সদর সার্কেল) রিপন চন্দ্র সরকার।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/এন