খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
রাজশাহীর নগরীর বোয়ালিয়া আমলি আদালতের চত্বরে এক নারী ও দুই কাজির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের সামনেই জনসম্মুখে এই ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওই নারীর বয়স ৩৫ বছর, বাড়ি রাজশাহী মহানগরেই। বাকিরা হলেন মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোস্তফা হোসেন ভিক্টর এবং তার ছোট ভাই বাকশিমইল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোকাদ্দেম হোসেন শাওন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাইয়ের সঙ্গে ওই নারীর তর্ক-বিতর্ক চলছিল। একপর্যায়ে ওই নারী রেগে গিয়ে শাওনকে লাথি মারেন। এরপর শাওনও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তাঁর পেটে লাথি মারেন। পুরো ঘটনার সময় বড় ভাই ভিক্টর পাশে থাকলেও শাওনকে থামানোর চেষ্টা করেননি। ঘটনার পর শাওন আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে ওই নারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে উভয়পক্ষকে আলাদা করে দেয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, এই দুই কাজি প্রতারক চক্রের সদস্য এবং তারা বিভিন্ন নারীর সঙ্গে বিয়ের নামে প্রতারণা করে থাকেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি তার বিয়ে হয়েছিল, যা পরে বিচ্ছেদে রূপ নেয়। তিনি দেনমোহরের ৩৮ লাখ টাকা পাওয়ার দাবিতে মামলা করেছেন। মামলাটি আপসের জন্য দুই কাজি তাকে চাপ দিচ্ছিলেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছিলেন। রাজি না হওয়ায় শাওন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত ভিক্টর বলেন, ‘ওই মহিলাই আগে আমার ভাইকে লাথি মারেন, পরে সে লাথি মারে। তবে এটা ঠিক হয়নি।’ এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে কাজি মোকাদ্দেম হোসেন শাওনকে বলেন, আমি ওই নারীকে মারিনি। ওই নারীই আমাকে লাথি মেরেছে। এরপর কথাকাটাকাটি হয়েছে শুধু।’
রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিকী বলেন, ‘আদালত চত্বরে কোনো নারীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী নারী লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। শহরে শাওনের একটি ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে, যেখানে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
খবরওয়ালা/এন