খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে নাইজেরিয়া থেকে ফেরার সময় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি নবজাতক কন্যাশিশু ছিল, যার জিনগত সম্পর্ক তাঁর সঙ্গে নেই বলে ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া নারী, যাঁকে বিবিসি ছদ্মনামে ‘সুসান’ নামে উল্লেখ করেছে, শুরুতে দাবি করেন তিনি গর্ভবতী অবস্থায় যুক্তরাজ্য ছেড়েছিলেন এবং নাইজেরিয়ায় গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর গর্ভধারণের প্রমাণ মেলেনি। পরবর্তীতে সুসান জানান, তিনি আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করেছিলেন। কিন্তু সে সম্পর্কেও পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
বিবিসি এই ঘটনার পটভূমিতে পারিবারিক আদালতের অন্তত দুটি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে উদ্বেগজনক একটি চিত্র তুলে ধরে—যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে নবজাতক আনার প্রবণতা বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব শিশুদের কেউ কেউ নাইজেরিয়ার তথাকথিত ‘বেবি ফ্যাক্টরি’ থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে।
সুসান দাবি করেন, তাঁর গর্ভধারণ সাধারণভাবে শনাক্ত করা যায় না—শিশুরা স্ক্যানে ধরা পড়ে না এবং কারও কারও গর্ভকাল ছিল ৩০ মাস পর্যন্ত!
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুনে নাইজেরিয়া গিয়ে তিনি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন এবং পরে শিশুটিকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন।
তবে ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই শিশুর সঙ্গে তাঁর বা তাঁর স্বামীর কোনো জেনেটিক সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও একই ফল আসে।
এরপর সুসান দাবি করেন, নাইজেরিয়ায় এক দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফ পদ্ধতিতে তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন, তাই শিশুর সঙ্গে ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।
তাঁর এই দাবির পক্ষে তিনি কিছু ছবি, ভিডিও ও কাগজপত্রও জমা দেন, কিন্তু সেগুলোর কোনওটিই যথাযথ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়নি, কারণ তাতে কারও মুখ দেখা যাচ্ছিল না।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে যারা শিশুদের সঙ্গে করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নাইজেরিয়ার হাইকমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাজ্যে শিশু পাচারের পেছনে থাকা বড় ধরনের একটি সমস্যা ও চক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/টিএস