“চীনের সাংহাইয়ে এক নারী ক্যাশিয়ার ছয় বছরের ব্যবধানে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা) আত্মসাৎ করেছেন শুধুমাত্র বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং একের পর এক কসমেটিক সার্জারির খরচ মেটানোর জন্য। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এই চাঞ্চল্যকর কাহিনি।
৪১ বছর বয়সী ওই নারী, যিনি ‘ওয়াং জিং’ ছদ্মনামে পরিচিত, একটি ফুল ও বাগানসেবার প্রতিষ্ঠানে মাসে মাত্র ৮ হাজার ইউয়ান বেতনে কাজ করতেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্যু তাকে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের দায়িত্ব দেন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণ আস্থা দেন।
কিন্তু সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই ওয়াং কোম্পানির অর্থকে নিজের খরচের উৎসে পরিণত করেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নিজের সৌন্দর্য রক্ষা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং বিলাসিতায় বুঁদ থাকা। ‘আমি কোনো পুরুষের জন্য নয়, শুধু নিজের জন্য এসব করেছিলাম,’ বলেন ওয়াং।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর চারবার করে কসমেটিক সার্জারি করাতেন তিনি—প্রতিবারে গড়ে ব্যয় হতো প্রায় ৩ লাখ ইউয়ান। এছাড়া ধনীর সন্তান হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে পরিচিতি পেতে বছরে প্রায় ২০ লাখ ইউয়ান খরচ করতেন। দামি গয়না, কুমিরের চামড়ার ব্যাগ, বিলাসবহুল ফ্যাশন পণ্য আর ক্যাসিনোতে জুয়ায় অংশগ্রহণ ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের হঠাৎ এক তল্লাশিতে ফাঁস হয় পুরো কাহিনি। আর্থিক প্রতিবেদন আর ট্যাক্স ফাইলিংয়ের মধ্যে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ে, আর কোম্পানির অ্যাকাউন্ট তখন প্রায় শূন্য। বাধ্য হয়ে মালিক স্যু নিজের সঞ্চয় থেকে কর্মীদের বেতন ও সুবিধা পরিশোধ করেন।
এরপর সাংহাইয়ের চ্যাঙনিং জেলা পিপলস প্রসিকিউটর অফিস ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।
খবরওয়ালা/টিএসএন



