খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর হাজারীবাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।
পুলিশের ভাষ্য, একজন নারী এনসিপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে মামলা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি শনিবার (২৬ জুলাই) হাজারীবাগ থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। তিনি রবিবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমকে জানান, তার শ্যালিকার সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। গত জুন মাসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই যুবক তার শ্যালিকাকে ধর্ষণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি হাজারীবাগ এলাকায় হওয়ায় তারা হাজারীবাগ থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি এনসিপির নেতা হওয়ায় থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগে যে বাসার কথা বলা হয়েছে, সেটি কামরাঙ্গীরচর থানার আওতায়। তাই ভুক্তভোগীকে সেই থানায় যেতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগের মুখে থাকা যুবক হাজারীবাগ থানাধীন এনসিপির নেতা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা জানান, যদি দলের কেউ অপরাধে যুক্ত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আপত্তি নেই। তবে নিরপরাধ কাউকে যেন ফাঁসানো না হয়।
এদিকে এনসিপি সূত্রে বলা হয়েছে, হাজারীবাগ এলাকায় দলটির কোনো কমিটি গঠন হয়নি। যারা আগে নাগরিক কমিটিতে ছিলেন, তারাই নিজেদের এনসিপি পরিচয় দিচ্ছেন।
কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা গ্রহণ করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন