খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লেখার হতাশা থেকে কিটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে তনু চন্দ্র দাস (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে রাত ৯টার দিকে সে কিটনাশক পান করে বলে জানিয়েছে পরিবার।
তনু তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের শিক্ষক ক্ষিতিস চন্দ্র দাসের একমাত্র কন্যা। তিনি তজুমদ্দিন মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
তনুর মা উজ্জলা রাণী জানান, সোমবার (২৮ জুলাই) ছিল জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে তনু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বারবার বলছিল, খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করে ফেলেছে এবং সে আর পাস করবে না।
পরিবার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন কিছুটা স্বাভাবিকও হয়েছিল সে। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তার রুমে গিয়ে দেখেন—সে ঘরে সংরক্ষিত কিটনাশক পান করেছে এবং ছটফট করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুনায়েদ হোসেন জানান, “তনুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। কিটনাশকের বিষক্রিয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
এ ঘটনায় তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন