খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং বিনিময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
পুতিনের এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় উঠে আসে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সামরিক ঘাঁটিতে দুই নেতার আলোচনার পরদিন এ তথ্য প্রকাশ পায়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল কোনো মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে এ সফরে আলোচনা হবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চেয়েছিলেন আলাস্কা বৈঠকে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হোক, যদিও তা হয়নি। তবে ইউক্রেনের ভূমি ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে ‘বড় ঐকমত্য’ হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের মতে, “আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি, তবে ইউক্রেনকে এতে রাজি হতে হবে।”
সূত্র বলছে, প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের সেনাদের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ছাড়তে হবে। এর বিনিময়ে রাশিয়া খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আশ্বাস দেবে। তবে ইউক্রেন বলেছে, তারা দোনেৎস্ক ছাড়বে না, কারণ সেখানে সেনারা শক্ত অবস্থানে আছেন এবং এ অবস্থান রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে সহায়ক।
ডিপ স্টেট প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া সুমি ও খারকিভের প্রায় ৪৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে, আর দনবাস অঞ্চলের ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাশিয়া এ অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে।
পুতিন অন্তত ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি পেতে চান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় দেশগুলো এ স্বীকৃতি দেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুতিন আরও আশা করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্তও রেখেছেন পুতিন। বিনিময়ে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া রাশিয়া চাইছে ইউক্রেনের ভেতরে কিছু এলাকায় রুশ ভাষার সরকারি স্বীকৃতি এবং রুশ অর্থোডক্স গির্জাকে অবাধ কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হোক।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা অভিযোগ করেছে, মস্কো-সংশ্লিষ্ট গির্জা প্রচার চালিয়ে ও গুপ্তচরদের আশ্রয় দিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধে সহযোগিতা করছে। গির্জা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা মস্কোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
ইউক্রেন ইতিমধ্যে রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। রুশ অর্থোডক্স গির্জা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত হলেও আইনটি এখনো কার্যকর হয়নি।
খবরওয়ালা/এন