এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
প্রবীর মিত্র-দেশীয় চলচ্চিত্রের এক অনবদ্য অভিনেতার নাম। অনেকে তাঁকে স্নেহভরে ডাকেন “ঢাকাই সিনেমার রঙিন নবাব” নামে।
জন্ম ও শৈশব
১৯৪০ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুর শহরের এক কায়স্থ পরিবারে জন্ম নেন প্রবীর মিত্র। তবে বংশপরম্পরায় তিনি ছিলেন পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রেই।
সেন্ট গ্রেগরি ও পোগজ স্কুলে পড়াশোনা শেষে স্নাতক সম্পন্ন করেন জগন্নাথ কলেজ থেকে।
অভিনয়ে পদার্পণ
শিক্ষাজীবনে প্রথম অভিনয়ের স্বাদ পান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে প্রহরীর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।
পরে ‘লালকুঠী থিয়েটার গ্রুপ’-এর মাধ্যমে পেশাদার অভিনয় জীবন শুরু করেন।
এরপর টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র — সবখানেই সমান দক্ষতায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তবে চলচ্চিত্রই তাঁকে এনে দেয় আজীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য ও দর্শকের হৃদয়ের আসন।
চলচ্চিত্র জীবন
প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ দিয়ে। এরপর অভিনয় করেন ‘জীবন তৃষ্ণা’তে।
প্রথম দিকে তিনি নায়কের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’সহ একাধিক ছবিতে।
সর্বশেষ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলচ্চিত্রে।
পরবর্তী সময়ে চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই দর্শক তাঁকে সবচেয়ে বেশি সমাদর করেছেন।
বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ। এই ছবিতে তাঁর অসাধারণ অভিনয় দেখে অভিনেত্রী সুমিতা দেবী মন্তব্য করেছিলেন
‘তুমি যদি এ ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাও, তবে অভিনয় ছেড়ে দিও।’
যদিও এ ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি, তবুও তিনি অভিনয় ছেড়ে দেননি— বরং দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকে আজীবন অভিনয়ে নিবেদিত থেকেছেন।
খেলাধুলায় সক্রিয়তা
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রবীর মিত্র ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী।
ষাটের দশকে ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটে খেলেছেন, ছিলেন দলের অধিনায়কও।
একই সময়ে ফায়ার সার্ভিসের হয়ে ফার্স্ট ডিভিশন হকি খেলেছেন।
কামাল স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলেছেন সেকেন্ড ডিভিশন ফুটবলও খেলেছেন।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রবীর মিত্র অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা।
সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন কোটি দর্শকের ভালোবাসা।
পরিসমাপ্তি
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্দার এই রঙিন নবাব চিরবিদায় নেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রবীর মিত্র শুধু একজন অভিনেতা নন, ছিলেন বহুমাত্রিক এক শিল্পী ও ক্রীড়াবিদ। ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান অম্লান হয়ে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড