খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের আবেদন নিয়ে গঠিত পর্যালোচনা কমিটি তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান এ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য যেসব ক্যাডারে তৃতীয় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদ রয়েছে, সেসব ক্যাডারের ৭৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ‘ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া যেতে পারে’।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট পর্যন্ত প্রশাসনের আড়াই হাজারের বেশি কর্মকর্তা পদোন্নতিতে ‘বঞ্চনার শিকার’ হয়েছেন। তাদের পুনর্বহাল বা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও এই কমিটিতে রয়েছেন। কমিটি দুই ধাপে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
প্রথম ধাপে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারে তৃতীয় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবেদন আহ্বান করা হয়।
এ সময়ে মোট ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৬৮টি আবেদন কার্যপরিধির বাইরে এবং ৪০টি আবেদন তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ থাকায় ১০৮টি আবেদন বিবেচনার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে ২১০টি আবেদন পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়। এ জন্য কমিটি মোট ১৪টি সভা আয়োজন করে।
প্রত্যেক ক্যাডারের আবেদন পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লিখিত সুপারিশ, প্রতিনিধির মতামত ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করে কমিটি।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গ্রেড-১ পদে ১২ জন, গ্রেড-২ পদে ৩২ জন এবং গ্রেড-৩ পদে ৩৪ জনসহ মোট ৭৮ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬ জন কর্মকর্তাকে ৩ ধাপ, ১৭ জনকে ২ ধাপ এবং ৫৫ জনকে ১ ধাপ পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১৩২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/শরিফ