খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রাম, রাজশাহী আর ময়মনসিংহ— তিন শহরের তিন ক্যাম্পাসের টানা ধাক্কা খেয়ে দেশের রাজনীতি যেন নতুন করে হাঁপাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা, ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত। রাজশাহীতে রাকসু ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তালাবদ্ধ প্রশাসনিক দপ্তর। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় দফা, রেললাইন অবরোধ, হল না ছাড়ার ঘোষণা— সব কিছু মিলিয়ে শিক্ষাঙ্গনের তাপমাত্রা এখন জাতীয় রাজনীতির থার্মোমিটারে সরাসরি ওঠানামা করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।
জিল্লুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাস থেকে রাজনীতির শিরায় শিরায় চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশজুড়ে রাজনীতি যখন নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় স্নায়ুযুদ্ধে, তখন ছাত্ররাজনীতি সেটারই এক্সটেনশন। কখনো প্রেসার গ্রুপ, কখনো আগাম ফিল্ড টেস্ট।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অথরিটি এখন আর একমুখী শব্দ নয়। ওটা এখন নেগোসিয়েশন। এত কিছুর ভেতরে সবচেয়ে রাজনৈতিক বাক্যটা এসেছে নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে। মব নাকি ফেব্রুয়ারির ভোটে কিছু করতে পারবে না।
৩০০ আসনে একযোগে ভোট হলে মব ছড়িয়ে যাবে। যুক্তিটা টেকনিক্যালি আকর্ষণীয়। কিন্তু মাঠে সত্যি এমনটাই হয়! ঢাকার যে মব ৫০০ জনে, বরিশালে সেটা ১৫০তেই কাজ সারতে পারে। ফল একই— ভয় দেখানো, ভোটারকে ঠেকানো, কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যস্ত রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নাকি মব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গেছেন।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, আমাদের বড় বড় রাজনীতি ৫২, ৬৯ ও ৯০ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান সব কিছুর ট্রেলার দেখা গেছে ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসের কণ্ঠস্বর ওঠে রাস্তায়। তারপর ব্যালটে বা ব্যারিকেডে তার ফলাফল দেখা যায়। ২০২৪-এর পর ছাত্রসমাজের ক্যাপাসিটি টু মবিলাইজ যে বহুগুণ বেড়েছে, সেটা এখন আর তত্ত্ব নয়, বরং প্রতিদিনের খবর।
খবরওয়ালা/এফএস