খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১৩ দিনের নবজাতক নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে বের হয়েছেন শাহজাদি। মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহজাদি ও তার মা নার্গিস বেগমকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুরের দিকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, সকালে আদালতের আদেশের অনুলিপি তুলে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত বিশেষ বিবেচনা ও বিনা জামানতে তাঁদের জামিন দেন।
খুলনা কারাগারের জেলার মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন জানান, জামিনের কপি আসার পর বেলা পৌনে ২টায় শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেলা ৩টায় খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শাহাজাদীকে মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এদিকে জামিনে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শাহাজাদী। তবে তাঁর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন কোনো খোঁজ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এর আগে ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরির ঘটনায় গত রবিবার শাহাজাদীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির। কিন্তু আদালতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিনের শুনানি হয়নি। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই দিন কারাগারে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাজাদী। রাতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে পৃথক কেবিনে রেখে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাঁদের জামিন আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহজাদি (৩৬) কন্যা সন্তানের জন্ম দান করেন। এর আগেও তাদের ঘরে আরও চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকের প্রত্যাশা ছিল এবার ছেলে সন্তান জন্ম হবে। কিন্তু মেয়ে হওয়ায় শ্বশুর বাড়ির কেউ আর খবর রাখেনি শাহজাদীর। একই হাসপাতাল থেকে আরেক প্রসূতির চার দিন বয়সী ছেলে নবজাতক চুরি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধারও করা হয়। শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নার্গিস বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৬ দিন ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শাহজাদী একটি কক্ষে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মায়ের কোলে চড়ে কারাগারে যায় ১২ দিনের শিশুটিও। মঙ্গলবার তারা মুক্তি পেলেন।
খবরওয়ালা/এসআর