খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
’আমি বাবা-মায়ের শত আদরের মেয়ে, আমি বড় হই সকলের ভালোবাসা নিয়ে…’—এই দুটি লাইন এখনও আশি ও নব্বই দশকের প্রজন্মের কাছে সুপরিচিত। মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্যই হোক না কেন, স্মৃতির জলধারায় হারিয়ে যাওয়া শৈশবের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনে। এই লাইনগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জনপ্রিয় ‘মীনা’ কার্টুন।
১৯৯১ সালে ইউনিসেফের উদ্যোগে শুরু হওয়া মীনা কার্টুন শুধু একটি শিশুপ্রেমী চরিত্র নয়, বরং সমাজের অসঙ্গতি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রতীক। মীনার পরিবারে মা-বাবা, ছোট ভাই রাজু, বোন রাণী, দাদী, গাভী লালী ও পোষা টিয়াপাখি মিঠু রয়েছে। এই চরিত্রগুলোকে প্রাণ দিয়েছেন অসংখ্য ভয়েস আর্টিস্ট।
মীনার কণ্ঠশিল্পী প্রমিতা গাঙ্গুলী বলেন, “২০০৫ সালে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় মীনার কণ্ঠের অডিশনে অংশ নিয়েছিলাম। প্রথম ডায়ালগটি ছিল—‘ও রাজু ইশকুলে যাইবা না? ওহ্ মিঠু’। এরপর একে একে ১১টি পর্বে কণ্ঠ দিয়েছি। ছোটবেলায় স্কুলে বন্ধুরা বলত—‘মীনার মতো করে কথা বলো’। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা আজও মনে থাকে।” প্রমিতা আজ আর বিনোদন জগতে নেই। তিনি ইইই-তে গ্র্যাজুয়েশন ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে সংসার জীবনে থিতু।
রাজু চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন আবরার সাজিদ পাশা, যিনি পড়তেন প্রথম শ্রেণীতে। তিনি বলেন, “রাজুর চরিত্রে কণ্ঠ দিতে ভালো লাগত। বিভিন্ন পর্বে শিশুদের শিক্ষামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে পারতাম।”
ছোট্ট টিয়াপাখি মিঠু-র কণ্ঠ দিয়েছেন কামাল আহসান, যিনি পাখিদের আচরণ ও শব্দ পর্যবেক্ষণ করে মিঠুর কণ্ঠ রপ্ত করেছিলেন। আর দুষ্টু দোকানদারের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন আমিনুর রহমান বাচ্চু, যিনি নিজেই উল্লেখ করেন, “দোকানদারের কণ্ঠ দিতে গিয়ে গলায় গামছা বেঁধে কণ্ঠ ধারন করতাম।”
শুরুর থিম সং-এর মিষ্টি কণ্ঠ দিয়েছেন পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা (সুষমা শ্রেষ্ঠা), যিনি ১৯৭০-এর দশক থেকে দর্শকদের মনে কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। থিম সং-এর সুর রচনা করেছেন আরশাদ মাহমুদ ও ফারুক কায়সার, যা পাকিস্তানেও রেকর্ড করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ শিরোনামে প্রথমবার সম্প্রচারিত হয় মীনা কার্টুন। ২০১২ সালে ইউনিসেফ মীনা, মিঠু ও রাজুকে নিয়ে একটি সরাসরি রেডিও শো চালু করে। ২০১৬ সালে ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ‘Meena Game’ নামে একটি গেমিং অ্যাপ উন্মুক্ত করে, যা দশ লাখেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে।
ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে শহরের ৯৭ শতাংশ শিশু এবং গ্রামের ৮১ শতাংশ শিশু মীনাকে চেনে। ২০০৫ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করে শিশু সংক্রান্ত সাংবাদিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য।
মীনা কেবল একটি কার্টুন নয়, বরং শতকের শিশুদের শৈশবের রঙিন স্মৃতি। আজও যারা সে সময়কার মীনা দেখেছে, তারা স্মৃতিমাখা আনন্দে ভরে যায়।
খবরওয়ালা/ এমএজেড