খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মেগা ধারাবাহিক ‘খুশবু’র নাম ভূমিকায় অভিনেত্রী মিষ্টি ঘোষ বলেছেন, নামমাত্র নায়িকা না, আমি অভিনেত্রী হতে চাই। সেটা বড় পর্দা, নাটক, ওয়েব ছবি বা সিরিজ যেখানেই হোক।
এত দিনে কতটা খুশবু হয়ে উঠতে পেরেছেন?
শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকে চেষ্টা করছি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। আশপাশের অনেকে বলছেন, চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছি।
শুটিংয়ের সময় ইউনিটও বলছে একই কথা। এই নাটকে আমার সঙ্গে যারা অভিনয় করছেন, তারা সবাই পূজনীয়। ফজলুর রহমান বাবু, ইন্তেখাব দিনার, অর্ষা, সামিরা খান মাহি—সবাই আমার প্রিয় অভিনয়শিল্পী। তাদের সঙ্গে একই নাটকে অভিনয় করছি, তাও আবার নাম ভূমিকায়, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।
আশা করছি, আরও কয়েকটি পর্ব প্রচার হলে দর্শকও বুঝতে পারবে, আমি কতটা খুশবু হয়ে উঠতে পেরেছি।
খুশবুর সঙ্গে ব্যক্তি মিষ্টির কতটা মিল?
পর্দার খুশবু খুব শান্ত, বাবার বাধ্য মেয়ে, সৎ। তবে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে মেনে নেয় না। লড়াই করতে জানে।
বাস্তবেও আমি ঠিক এমনই। খুশবু খুব ধার্মিক, আমিও নিজের ধর্ম মনপ্রাণ দিয়ে মানি। পরিচালক সাজ্জাদ সুমন ভাইয়ের কাছে খুশবু চরিত্রটা যখন শুনেছিলাম তখনই বলেছিলাম, এটা আমার গল্প।
‘স্টার হান্ট’-এ অংশ নেওয়ার গল্পটা কেমন?
আমি জব করতাম। অফিসেই ‘স্টার হান্ট’-এর বিজ্ঞাপন দেখি।
অনেক দিনের ইচ্ছা রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার। নাচ জানি, মঞ্চে অভিনয় করেছি, টুকটাক টিভিসিও করেছি। মনে হতো, রিয়েলিটি শোর জার্নিটা আসলে কেমন? এটা ভেবেই রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম।
জয়ী হবেন ভেবেছিলেন?
বিশ্বাস ছিল। তবে জয়ী হব—এটা প্রথম ধাপেই অনুমান করা কঠিন ছিল। প্রতি পর্বেই নিজের সেরাটা দিয়েছি। শুধু একটা পর্বে অসুস্থ ছিলাম। খেসারত হিসেবে বাদও পড়েছিলাম। পরে আবার বিশেষ নিয়মে যুক্ত হই। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর অবশ্য আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তখন থেকেই মনে হতো—তৃতীয় বা দ্বিতীয় নই, আমিই প্রথম হব। শেষ পর্যন্ত আমার বিশ্বাস জয়ী হয়েছে।
পরিবারের সমর্থন পাচ্ছেন?
‘স্টার হান্ট’-এ অংশ নেওয়ার কথা জানার পর শুরুতে সবাই মন খারাপ করেছিল। তবে যখন জয়ী হলাম তখন থেকে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবার সমর্থন পেতে থাকি। এখন তো ‘খুশবু’ দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করেন। কবে, কোথায় শুটিং করছি সেসব জানতে চান। খুব ভালো লাগে আমার।
সামনে দুর্গাপূজা। কী পরিকল্পনা করলেন?
২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুটিং। আমার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে যাব। বাবা-মায়ের সঙ্গে পূজার সপ্তাহটা কাটাব। আত্মীয়রা বাড়িতে আসবেন। তাদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটবে।
‘খুশবু’র বাইরে আর কিছু করছেন?
গত ঈদে দীপ্ত টিভির একটি একক নাটক করেছিলাম—‘নেমেসিস’। আমার সহশিল্পী ছিলেন আরশ খান। এর বাইরে কিছু টিভিসি ও ওভিসি করছি। সামনে ভালো কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে। তবে নামমাত্র নায়িকা না, আমি অভিনেত্রী হতে চাই। সেটা বড় পর্দা, নাটক, ওয়েব ছবি বা সিরিজ—যেখানেই হোক।
অভিনয়ে আসার পর কি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন?
না। আমার অফিসটা খুব ভালো। সব ধরনের সহযোগিতা করে তারা। যেদিন যেদিন শুটিং থাকে তারা ছাড় দেয়। এটা একটা ফ্যাশন হাইস। আমি সেখানে আছি অনলাইন এক্সিকিউটিভ হিসেবে।
এমন কোনো ইচ্ছা আছে, যেটা পূরণ হলে ভালো লাগবে?
অবশ্যই আছে। আমার প্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম জাহিদ হাসান স্যার। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করতে পারলে খুব ভালো লাগত। জানি না আমার এই ইচ্ছা কবে পূরণ হবে!
খবরওয়ালা/এমইউ