খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
স্পেন থেকে ফিলিস্তিনিদের সাহায্যার্থে গাজার দিকে রওনা হওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) মানবিক সাহায্যবাহী নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা আটক হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে আটকে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ইসরায়েলের ব্যবহারের নির্লজ্জ প্রকাশ। বাংলাদেশ অবিলম্বে আটক হওয়া সমস্ত মানবিক সহায়তা কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়াও, বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, গাজায় গণহত্যা বন্ধ করা এবং মানবিক অবরোধ তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানবিক সহায়তা বহনকারী এই নৌবহরটি বিশ্ববাসীর ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতির প্রতীক। ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় তাদের নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
এই ভয়ঙ্কর দুর্দশা এবং চলমান দুর্ভোগের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অবরুদ্ধ গাজার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধসহ অত্যাবশ্যকীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা যাত্রা শুরু করেছিল। এই প্রতীকী মানবিক অভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তিকামী নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ শত শত কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি সেনারা গাজা অভিমুখে যাওয়া এই ত্রাণবাহী বহরের অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে। বহরের জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং ৪৪৩ জন কর্মীকে আটক করেছে তারা। গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলেও ফ্লোটিলা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান, বলিভিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেও ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা এসেছে। ইতালির কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল অঞ্চলটির ওপর বিভিন্ন মাত্রার অবরোধ বজায় রেখেছে। তখন থেকে ফিলিস্তিনিরা কার্যত গাজার ভেতরেই অবরুদ্ধ। এর মধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামাসকে দমনের অজুহাতে ইসরায়েল গাজায় সামরিক আক্রমণ শুরু করে।
খবরওয়ালা/টিএসএন