খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই অক্টোবর ২০২৫, ৯:৫৬ পিএম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব ছাড়ার আগে তাঁদের পাসপোর্ট জব্দ করা জরুরি। এতে সন্দেহভাজনদের পালিয়ে যাওয়া রোধ হবে, স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত হবে এবং জনগণের আস্থাও বজায় থাকবে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাসুদ কামাল বলেন, দৈনিক মানবজমিন-এর ৪ অক্টোবরের সংখ্যায় প্রকাশিত ‘প্রফেসর ইউনূস নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনের শেষভাগে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের প্রশাসনিক নৈতিকতার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। যার অর্ধেক যাওয়ার কথা ছিল ‘একটি বিশেষ স্থানে’ এবং বাকি অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে। এ বিপুল টাকার বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কোনো কাজ করতে হতো না, শুধু বাণিজ্যিক কারসাজিতে সম্মতি জানালেই হতো।
তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই টাকার একাংশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার নামও জড়িয়ে গেছে—যেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন প্রফেসর ইউনূস। সরাসরি কিছু বলা না হলেও এই ইঙ্গিত এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন বা কীভাবে তাঁর বাসভবনের নাম এমন একটি দুর্নীতির আলোচনায় আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মাসুদ কামালের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করা প্রফেসর ইউনূসের ভাবমূর্তির সঙ্গে এই ইঙ্গিতের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—প্রফেসর ইউনূস হয়তো জানেন না, এখন আলোচনার টেবিলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের নামও উচ্চারিত হচ্ছে। অর্থাৎ চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে নানা মহলের আলোচনাতেও যমুনার নাম ঘুরছে।
মাসুদ কামাল বলেন, ‘৮০ কোটি টাকার ওই প্রস্তাবের একাংশ একটি বিশেষ স্থানে যাওয়ার কথা ছিল, যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার নামও এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—যেখানে বর্তমানে প্রফেসর ইউনূস থাকেন, সেই স্থানের নাম যদি এই দুর্নীতির প্রসঙ্গে উঠে আসে, তবে কি কোনোভাবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে? যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি কিছু বলা হয়নি, তবে ইঙ্গিত সুস্পষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁরা এখন জনগণের অধিকারকেও নিলামে তুলছেন। গণ-অভ্যুত্থানের সুফল ভোগ করা উচিত ছিল সাধারণ মানুষের, কিন্তু সেটি এখন কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।’
মাসুদ কামাল আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই—অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরুর আগে বিদেশগমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। দোষীরা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে, প্রয়োজনে তাঁদের পাসপোর্ট জব্দসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক—কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।’
তিনি শেষ করেন এভাবে—‘আন্দোলনের পর যাঁরা বড় দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁদের নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড যদি সন্দেহাতীত না হয়, তবে তা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।’
খবরওয়ালা/এন
মন্তব্য