খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বিএনপি।
একই সঙ্গে দলটি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার প্রস্তাব থেকেও সরে এসেছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সংলাপ শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদের বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আমরা ফাইনাল স্টেজে আছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে।”
এর আগে সংলাপে সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রস্তাব দেন, সংবিধানে হাত না দিয়েই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ’ জারি করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব। তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সংবিধানে কোথাও বলা নেই যে জাতীয় ইস্যুতে গণভোট করা যাবে না।
গণভোটের মাধ্যমে আগামী সংসদ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের ক্ষমতা বা কন্সটিটুয়েন্ট অথরিটি পাবে। গণভোটে জুলাই সনদ জনগণের অনুমোদন পেলে, নতুন সংসদ তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। পরবর্তীতে সাংবিধানিক সংস্কারের পর ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আরেকটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তবে জামায়াতের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শিশির মনির প্রশ্ন তোলেন— সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ স্পর্শ না করে কীভাবে মৌলিক সংস্কার সম্ভব? জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন,“গণভোটে সংবিধান সংস্কার হবে না, বরং আগামী সংসদের জন্য তা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোট হলে সংবিধান আদেশ বা আদালতের মতামত জরুরি নয়। জনগণের সার্বভৌম মতামতে জুলাই সনদ গৃহীত হলে, তা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোটই চূড়ান্ত উপায়। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক দল সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে কিনা— এই প্রশ্ন আছে। তাই জনগণের সার্বভৌম মতামত জানতে গণভোটই হবে চূড়ান্ত অভিমত।
খবরওয়ালা/আশ