আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
আফ্রিকার পরম রাজতান্ত্রিক দেশ এসওয়াতিনির (পূর্বে সোয়াজিল্যান্ড) রাজা মস্বাতি তৃতীয়ের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুনভাবে ভাইরাল হয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জুলাই মাসে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাজা মস্বাতি তৃতীয় একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানে করে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে নামছেন, এবং তার পেছনে ১৫ জন স্ত্রী ও ১০০ জন সহকারী সারিতে হেঁটে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য আবারও তার বিলাসবহুল জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে সমালোচনা বাড়িয়েছে।
ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজা তার ১৫ জন স্ত্রী এবং ১০০ জন দাসীসহ আবুধাবিতে পৌঁছেছেন। উল্লেখযোগ্য, তার পিতা রাজা সোভাবুজা দ্বিতীয়ের ১২৫ জন স্ত্রী ছিলেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাজা মস্বাতি তৃতীয় এই সফরে তার ৩০ জন সন্তানকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। এত বড় রাজকীয় বহরের কারণে আবুধাবি বিমানবন্দরে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কিছু সময়ের জন্য একাধিক টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হয়।
ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা রাজার বিলাসবহুল জীবন ও দেশের সাধারণ নাগরিকদের দারিদ্র্যের মধ্যে তীব্র বৈপর্যয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একজন লিখেছেন, রাজার বিলাসে কাটছে, অথচ তার জনগণের ঘরে বিদ্যুৎ নেই। আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, দেশ কি এত ধনী যে রাজা ব্যক্তিগত জেট চালাতে পারেন? অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, রাজা জেটে ঘোরেন, প্রজারা অনাহারে ভুগছে।
আফ্রিকার শেষ জীবিত পরম রাজতান্ত্রিক শাসক হিসেবে পরিচিত রাজা মস্বাতি তৃতীয় ১৯৮৬ সাল থেকে ছোট দক্ষিণ আফ্রিকান দেশ এসওয়াতিনির শাসন করছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি।
অন্যদিকে, দেশটি সামাজিক সংকটে ভুগছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়েছে; সরকারি হাসপাতালে ওষুধের অভাব এবং অর্থাভাবে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ পড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২১ সালে দেশের বেকারত্ব ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এসওয়াজিল্যান্ড নিউজ জানিয়েছে, নির্মাণ, পর্যটন, কৃষি, টেলিযোগাযোগ ও বনশিল্পসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন রাজা মস্বাতি।
রাজা মস্বাতি তার বিলাসবহুল জীবন ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী প্রথার জন্য সুপরিচিত। তিনি প্রতি বছর ‘রিড ড্যান্স’ অনুষ্ঠানে সাধারণত নতুন একজন করে কনে নির্বাচন করেন। এটি শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক রীতি হলেও আধুনিক সমাজে সমালোচনা কম নয়।
বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এই বাস্তবতার মধ্যে রাজার বিশাল ঐশ্বর্য ও প্রজাদের নিদারুণ দুর্দশার বৈপর্য্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন