খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
রাজবাড়ীর পাংশায় স্বামী শহীদ মন্ডল হত্যা মামলায় স্ত্রী রহিমা খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক সোহেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং রহিমা খাতুন একই গ্রামের নিহত শহীদ মন্ডলের স্ত্রী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ মার্চ রাতের কোনো এক সময়ে শহীদ মন্ডলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রহিমা খাতুন ও তার প্রেমিক সোহেল। পরে নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম রাজবাড়ী ২নং আমলি আদালতে সোহেলসহ পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে পাংশা মডেল থানায় রেকর্ড হয়।
তদন্তের পর পুলিশ রহিমা খাতুনকে গ্রেফতার করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রহিমা খাতুন স্বীকার করেন, বিয়ের আশ্বাসে সোহেলের কথামতো তিনি দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শহীদ মন্ডলকে খাওয়ান। পরে ঘুমিয়ে পড়লে সোহেল ঘরে ঢুকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর রহিমা চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “চাঞ্চল্যকর শহীদ মন্ডল হত্যা মামলায় আদালত অভিযুক্ত রহিমা খাতুন ও সোহেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
খবরওয়ালা/আশ