খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মায়ের পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় খুন হয়েছেন একমাত্র ছেলে কামরুল হাসান কাউছার (২১)।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মা হামিদা বেগমকে আটক করা হলেও তার কথিত প্রেমিক, সিএনজি অটোরিকশা চালক করিম পলাতক রয়েছেন।
নিহতের নানি ফরিদা বেগম বাদী হয়ে হামিদা বেগম ও করিমকে আসামি করে ভূজপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামিদার স্বামী কামাল ভুঁইয়া দুই বছর ধরে দুবাই প্রবাসী। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তিনি স্থানীয় সেমিপাকা বাড়িতে থাকতেন। এসময় প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক করিমের সঙ্গে হামিদার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাতের বেলায় করিমের যাতায়াত টের পেয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ৫ অক্টোবর রাতে করিম হামিদার ঘরে ছিলেন। ওই রাতে দুই মেয়েকে পরিকল্পনা করে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে কাউছারের মরদেহ ঘরের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, পাশে বসে কান্না করছিলেন মা হামিদা।
প্রতিবেশী পেয়ারুল ইসলাম বলেন, “সকালে দুই বোনের চিৎকার শুনে আমরা গিয়ে দেখি কাউছারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন।” খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
দুবাই থেকে ফিরে নিহতের বাবা কামাল ভুঁইয়া বলেন, “আমার ছেলে শান্ত স্বভাবের ছিল। করিমের আসা-যাওয়া নিয়ে মা-ছেলের ঝগড়া হতো। আমি ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভূজপুর থানার ওসি মাহবুবুল হক জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদা বেগম স্বীকার করেছে, পরকীয়ার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পলাতক করিমকে ধরতে অভিযান চলছে।”
খবরওয়ালা/আশ