খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ যেতেই লাবনীর জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। জানা যায়, তার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। স্ত্রীকে সুস্থ করার জন্য স্বামী সাইফুল নিজের একটি কিডনি দান করলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। তিন বছরের মাথায় স্বামী দেওয়া কিডনিও বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে এই দম্পতি চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা শান্তিপাড়ার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে লাবনী খাতুন ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের আনন্দ উপভোগ করার আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনি বিকল। এরপর থেকে সুখের ছোঁয়া নেই লাবনীর জীবনে, বরং একের পর এক দুশ্চিন্তা ঘিরে রেখেছে তাকে। তার অসুস্থতায় স্বামী সাইফুলও মানসিকভাবে ভুগছেন।
সাইফুল জানান, নানা চিকিৎসার পর ডাক্তাররা জানালেন, দুইটা কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। তারা বললেন, চিকিৎসার একমাত্র পথ হলো ডায়ালিসিস বা আরেকটি কিডনি প্রতিস্থাপন। আমাদের কাছে এত টাকা-পয়সা ছিল না। পরে ব্লাড গ্রুপ মিলে যাওয়ায় আমি একটি কিডনি দিয়েছি। দেওয়ার পর দুই-তিন বছর ভালো ছিল। কিন্তু এক-দেড় বছর পরে আবার অসুস্থ হয়ে গেছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি।
একটি কিডনি না থাকায় সাইফুল আগের মতো কাজও করতে পারছেন না। লাবনীর ডায়ালিসিসের খরচ প্রতি সপ্তাহে প্রায় সাত হাজার টাকা। সংসার চালানোই কষ্টকর, সেখানে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।
সাইফুল বলেন, ‘ডাক্তার আবার বলছে, আরেকটি কিডনি দিলে সে সুস্থ থাকবে। না হলে ডায়ালিসিস চালাতে হবে। ডায়ালিসিসে সপ্তাহে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা লাগে। সংসার চালানোই কষ্ট। আমি নিজে কাজকর্ম করতে পারি না।’
অসুস্থ লাবনী কান্না ভেঙে বলেন, ‘দুনিয়ায় আমার হাজবেন্ড ছাড়া আর কেউ নেই। আমার হাজবেন্ডেরও আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এখন ডায়ালিসিস চালানো আমার কাছে খুব কষ্টের। যদি একদিন ডায়ালিসিস না করি, মনে হয় পৃথিবীর বুকে আর নেই আমি। আমার এত কষ্ট হয়।’
স্বজনদের সহযোগিতা ও যেসব সহায়তা ছিল, সবই বিক্রি করে লাবনীর চিকিৎসা করেছেন সাইফুল। ইতিমধ্যেই চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। বর্তমানে অর্থাভাবে অসুস্থ জীবন কাটাচ্ছেন দম্পতি।
সাইফুল বলেন, ‘স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে সবার সাহায্য প্রয়োজন। যদি সমাজের সক্ষম ব্যক্তি এগিয়ে আসতেন, তাহলে লাবনী সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেত।’
খবরওয়ালা/শরিফ