অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
আজ ৩১ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে হ্যালোইন ডে, যাকে অনেকেই ‘ভূত দিবস’ নামেও চেনেন। ‘হ্যালোইন’ শব্দটির অর্থ হলো ‘পবিত্র’, যা এসেছে ‘অল হ্যালোজ ডে’ বা ‘ফিস্ট অব অল সেন্টস ডে’ থেকে। যদিও এটি মূলত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি প্রধান উৎসব, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ উৎসবের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও।
প্রায় দুই হাজার বছর আগে সেল্টিক জাতির মানুষ প্রথম এ উৎসব উদযাপন শুরু করে। ইতিহাস অনুযায়ী, সামহাইন উৎসব থেকেই হ্যালোইনের উৎপত্তি। সেল্টিকদের বিশ্বাস ছিল, এই দিনে মৃতদের আত্মা জীবিতদের আত্মার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পৃথিবীতে ফিরে আসে। অশুভ আত্মাদের দূরে রাখতেই জীবিতরা ভূতের মতো পোশাক পরতেন এবং আগুন জ্বালিয়ে রাখতেন। সেই সময়কার ‘সাহ-উইন’ উৎসবই বর্তমান সময়ের ‘হ্যালোইন’ উৎসবে রূপ নিয়েছে।
হ্যালোইন উৎসবের অন্যতম প্রধান প্রতীক হলো কুমড়ো। অনেকেই এদিন কুমড়ো খোদাই করে ঘর সাজিয়ে তোলেন। তবে প্রশ্ন জাগে—কেন কুমড়োই এ উৎসবের মূল উপকরণ?
জনশ্রুতি অনুযায়ী, হ্যালোইন ও মিষ্টি কুমড়োর মধ্যে একটি আইরিশ কাহিনি জড়িত। বলা হয়ে থাকে, একসময় সেখানে স্টিঞ্জি জ্যাক নামে এক মাতাল বাস করতো, যে একবার শয়তানকে মদ্যপানের দাওয়াত দেয়। শয়তানকে প্রতারণা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জ্যাক নিজের ফাঁদেই পড়ে মৃত্যু বরণ করে। মৃত্যুর পর স্বর্গ বা নরক—কোথাও তার জায়গা হয় না। ফলে জ্যাকের আত্মাকে একটি শালগমের ভেতরে বন্দি করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। বলা হয়, সেই শালগমই অশুভ আত্মাদের প্রতিহত করতো। পরবর্তীকালে সেই শালগমের জায়গা নেয় কুমড়ো, যা দিয়ে আজও নানা আকৃতির লণ্ঠন বানানো হয়।
হ্যালোইন উৎসবে মানুষ নানা উদ্ভট পোশাক পরে। কেউ সাজে রাক্ষস, কেউ বা শয়তান, ভূত, ভ্যাম্পায়ার, দানব, মমি, কঙ্কাল, ওয়ারউলফ কিংবা ডাইনিতে।
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে হ্যালোইন ডে পালিত হতে শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে দিনটির আনুষ্ঠানিকতা আরও বিস্তৃত হয় এবং পরবর্তীতে এটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিন সবাই ভূতের সাজে নিজেকে সাজায়। অনেকের বিশ্বাস, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যায় বিদেহী আত্মারাও।
অক্টোবর মাসজুড়েই হ্যালোইনকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন—কুমড়োর লণ্ঠন তৈরি, বাড়িঘর ও রাজপথ সাজানো, এবং চকলেট-পেস্ট্রি বানানোর ব্যস্ততা দেখা যায় সর্বত্র।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ডে শুধু উৎসব নয়, একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক ইভেন্ট হিসেবেও পরিচিত। দেশটিতে প্রতিবছর এ উৎসবে খরচ হয় প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এদিন আমেরিকার শিশুরা ভূতের সাজে অংশ নেয় জনপ্রিয় ‘ট্রিক অর ট্রিট’ অনুষ্ঠানে। তারা প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে বলে, “Trick or Treat?” প্রতিবেশীরা তখন ভয় পাওয়ার ভান করে বলেন “Treat”, এবং শিশুদের হাতে চকলেট তুলে দেন।
হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোককাহিনি ঘেরা হ্যালোইন আজ বিশ্বের বহু দেশে পালিত হচ্ছে এক আনন্দ-উল্লাসের উৎসবে পরিণত হয়ে।