খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের কেরালা রাজ্যের সবরিমালা মন্দিরে দেবমূর্তি থেকে সোনার আবরণ খুলে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। রাজ্যের হাইকোর্ট জানিয়েছে, মন্দিরের কিছু দেবমূর্তি থেকে সোনার আস্তরণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবরিমালা মন্দিরে ভক্তদের দান করা স্বর্ণ ও রৌপ্য দিয়ে দেবমূর্তি ও অলঙ্কার সাজানোর প্রচলন বহু পুরোনো। লাখো ভক্তের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু এই মন্দিরে এমন সোনাচুরির ঘটনা সবাইকে হতবাক করেছে।
কেরালা হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। এ ঘটনায় মন্দিরের সাবেক সহকারী পুরোহিত উন্নিকৃষ্ণন পট্টিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিচারপতি রাজা বিজয়ারাঘবন ভি ও বিচারপতি কে.ভি. জয়কুমারের বেঞ্চ এই মামলার তদন্ত তদারকি করছেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা নিয়মিতভাবে শুনানি নিচ্ছেন।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু দুটি দ্বারপালক বা দেবালয়ের দরজার রক্ষক মূর্তি। আদালত নিযুক্ত বিশেষ কমিশনারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই দুটি মূর্তির বহু স্থানে সোনার আবরণ তুলে ফেলা হয়েছে।
মন্দিরের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৮-৯৯ সালে শিল্পপতি বিজয় মাল্যর অনুদান থেকে পাওয়া ৩০.২৯১ কেজি সোনা ব্যবহার করে দেবমূর্তি, স্তম্ভ, দরজার খিলান ও অলঙ্করণে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে সাবেক সহকারী পুরোহিত উন্নিকৃষ্ণন পট্টিকে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের অনুমতিতে মূর্তিগুলো মন্দিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুন করে সোনায় মোড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুই মাস পর মূর্তিগুলো ফিরিয়ে আনা হলেও সেগুলোর ওজন পরিমাপ করা হয়নি। পরে তদন্তে দেখা যায়, মূর্তিগুলোর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪.৫৪ কেজি সোনা নিখোঁজ রয়েছে।
বিচারপতিরা মামলাটিকে “লুটপাট ও ডাকাতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অভিযুক্ত পুরোহিত উন্নিকৃষ্ণন পট্টি বর্তমানে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।”
এসআইটি আরও দুইজন বোর্ড কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের আওতায় আছেন বোর্ডের সভাপতি পি.এস. প্রসান্তও। তবে তিনি দাবি করেছেন, “বর্তমান বোর্ডের সময়ে এই ঘটনা ঘটেনি। আমরা আদালতের তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি।”
আদালত আরও জানিয়েছে, মেরামতের পর পুরোহিত পট্টি বোর্ডের অনুমতিতে ৪৭৪.৯ গ্রাম সোনা নিজের কাছে রেখেছিলেন। এমনকি তিনি এক ই-মেইলে বোর্ডকে অনুরোধ করেন এই অতিরিক্ত সোনা এক পরিচিত মেয়ের বিয়েতে ব্যবহারের অনুমতি দিতে।
কেরালা হাইকোর্ট এই বিষয়টিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছে এবং বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। আদালত আরও জানিয়েছে, “যে-ই এতে জড়িত থাকুক, তার প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন