খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তে একটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ইসরায়েলি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘শরিম’ জানিয়েছে, এই ঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকার এই ঘাঁটিতে হাজারের বেশি সেনা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। শরিমের তথ্য উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং অনেকের মতে, এটি ইসরায়েলকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই ঘাঁটি ওয়াশিংটনকে ইসরায়েলের সরাসরি সমন্বয় ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেবে এবং পরিস্থিতি নিজেদের মতো গড়ে তোলার সক্ষমতা বাড়াবে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য স্থানের বিষয়ে আলোচনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের গাজায় চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধ নিয়ে বৈশ্বিক ক্ষোভ যখন তীব্র হচ্ছে, তখন এই পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তাদের মতে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপ সাময়িকভাবে কমাতে তার মিত্রদের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ এক দখলদারিত্বকে অন্য দখলদারিত্ব দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টা—অর্থাৎ ইসরায়েলি সেনাদের পরিবর্তে বিদেশি সৈন্যদের বসানো।
নভেম্বরের শুরুতে গাজার হামাস আন্দোলনের সিনিয়র নেতা মুসা আবু মারজুক আল জাজিরাকে বলেছেন, “আমরা এমন কোনো সামরিক বাহিনী মেনে নিতে পারি না, যা গাজায় দখলদার বাহিনীর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, কাতার ও মিশরের নেতৃত্বে অন্তত দুই বছর গাজায় অবস্থান করবে বলে উল্লেখ ছিল।
সমালোচকদের মতে, পুনর্গঠন ও নিরাপত্তার অজুহাতে মূলত গাজাকে অস্ত্রহীন করা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের কাঠামো ধ্বংস করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা, এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিপূরণের অধিকারের মতো মূল বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে। এর মধ্যেই নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি নির্মাণের খবর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
খবরওয়ালা/টিএসএন