খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার পর এক সাংবাদিক নাজমুল হোসেন শান্তকে বললেন, “আপনার ওপরে তো শুধু ব্র্যাডম্যান আর জর্জ হ্যাডলি।” কথাটি শুনে যেন কিছুটা লজ্জাই পেলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। হেসে ফেলে বললেন, “ক্যারিয়ার সবে তো শুরু…।” তাঁর কণ্ঠে বিনয়, তবু পরিসংখ্যান বলছে অন্য গল্প।
টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর সেঞ্চুরি করার হারে ইতিহাসের মাত্র দু’জন কিংবদন্তি শান্তর ওপরে। ৩৮ টেস্টে ১৩টি পঞ্চাশ পার করা ইনিংসের মধ্যে ৮টিতেই করেছেন সেঞ্চুরি—অর্থাৎ ৬১.৫৪ শতাংশ ফিফটি রূপ নিয়েছে সেঞ্চুরিতে। এমন রূপান্তর হার তাঁকে সরাসরি দাঁড় করিয়েছে ‘ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান’ খ্যাত জর্জ হ্যাডলি ও ডন ব্র্যাডম্যানের কাতারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হ্যাডলি ১৫ বার পঞ্চাশ ছুঁয়ে ১০ বার সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন (৬৬.৬৭ শতাংশ)। আর ব্র্যাডম্যান তো আরও অবিশ্বাস্য—পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর ৬৯.০৫ শতাংশ ইনিংসে পৌঁছেছেন শতকে।
তবে রেকর্ড নয়, শান্তর মনোযোগ স্থির ব্যাটিংয়েই। সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর তিনি বলেন, “ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি—এগুলো নিয়ে আলাদা করে ভাবি না। থিতু হলে সব সময় চেষ্টা করি দলকে কীভাবে বড় স্কোর দিতে পারি।”
প্রশংসা শুনে বরং অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি, “মাত্র ৩৮টা ম্যাচ খেলেছি। এত বড় বড় কথা শুনতে ভালো লাগে না। মুশফিক ভাই ৯৯টা টেস্ট খেলেছে। আমি যদি ১০০–১৫০ ম্যাচ খেলে ধারাবাহিক থাকতে পারি, তখনই বলতে পারব ক্যারিয়ারটা ভালোভাবে শেষ করেছি।”
অধিনায়ক হিসেবেও শান্তর সময়টা দুর্দান্ত। তাঁর ৮ সেঞ্চুরির ৪টিই এসেছে অধিনায়কত্বে। বাংলাদেশের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে শুধু মুশফিকুর রহিমের—তাও দ্বিগুণের বেশি ইনিংস খেলে।
নিজের ভূমিকা নিয়ে শান্তর ভাবনা সহজ: “ব্যাট করতে নামলে আমি শুধু ব্যাটসম্যান। একবারও মনে হয় না অধিনায়ক হিসেবে খেলছি। মাঠের বাইরে বা ফিল্ডিংয়ে থাকলে তখন দায়িত্বটা পালন করি।”