খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, সিনেমার পর্দা, সেলুলয়েড, আর সব কিছুর মাঝে অনেকেই ভাবেন বন্ধু খুঁজে পাওয়া একটি কঠিন কাজ। কিন্তু এই জগতের রঙিন প্যাঁচে, অনেকের কাছে বন্ধু থাকা সম্ভব হয়। তবে কিছু কিছু মানুষ তাদের বন্ধুদের জন্য এক বিশেষ প্রভাব রাখে, তাদের মন থেকে কেউ কখনো ভুলতে পারে না। এমনই একজন হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়, যাকে ‘অতি নির্ভরযোগ্য’, ‘সততা’ এবং ‘দায়িত্বশীল’ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু, অভিনেত্রী জয়া আহসান।
জয়া আহসান, যিনি বাংলাদেশ ও ওপার বাংলায় সমান জনপ্রিয়, সম্প্রতি তার বন্ধুত্বের সম্পর্কে কিছু নতুন অভিব্যক্তি শেয়ার করেছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কাজের পার্টনার আবীর চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার কথায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে এমন এক ধরনের সাদৃশ্য রয়েছে, যা তাকে অন্যান্য বন্ধুদের থেকে আলাদা করে রাখে। জয়া বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়েও, আমি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি আবীরের সঙ্গে। ওর সাথে কাজ করার সময় আমার সবচেয়ে কমফোর্ট জোন তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে আবীরের ব্যক্তিত্ব অনেকটা শুদ্ধ। আমি কখনো দেখিনি সে কারও সমালোচনা করছে বা কারও সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলছে। এমনকি কোথাও কোনো খারাপ কথাও শোনা যায়নি তার মুখে।”
এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট যে, জয়ার কাছে আবীর শুধু একজন সহকর্মী বা বন্ধুই নন, তিনি তার জীবনের অনেক বড় অংশ। একটি ঘটনা তুলে ধরে, জয়া বলেন, “যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম পুতুল নাচের ইতিকথার জন্য। আবীর সেখানে ঢোকার পর পুরো হলটা যেন তার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল।”
তবে, যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন জয়া, তা হলো আবীরের ব্যালান্সিং দক্ষতা। পরিবার এবং কর্মজীবন পাশাপাশি সমানভাবে পরিচালনা করা একদম সহজ কাজ নয়, কিন্তু আবীর চমৎকারভাবে তা করে দেখিয়েছেন। জয়া বলেন, “ওর মতো একজন মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।”
জয়ার মতে, আবীরের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার আন্তরিকতা। “যে অনুভূতিগুলো সে প্রকাশ করে, তা সবই হৃদয় থেকে আসে এবং কখনও ফেক নয়। আমি চাই, আবীর যেন সারাজীবন এমনই থাকে, কারণ আমাদের মতো অনেকেই যে কাজগুলো করতে পারি না, সে সেগুলো সহজেই করে দেখায়।”