খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপে যোগ দিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের দিল্লি রওনা হওয়ার কথা ছিল বুধবার। তবে আকস্মিকভাবে সফরটি একদিন এগিয়ে তিনি মঙ্গলবারই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই সফর এগিয়ে আনার পেছনে মূল কারণ হতে পারে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ। রায়ের পর দেশ–বিদেশে যে রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দিল্লির সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ (CSC), যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং তথ্য আদান–প্রদান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে। সম্মেলনের আগে বুধবার ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ড. খলিলের বৈঠকের সম্ভাবনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
এর মধ্যে একটি বড় বিষয় হলো—ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ পাঠানো হচ্ছে। রায়ের পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ড. খলিল ও অজিত দোভালের সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে। নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত কী অবস্থান নেয়—তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ গত ১৫ মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তী সময়ে নিউ ইয়র্ক, ঢাকা ও ব্যাংককে ধারাবাহিক বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরিস্থিতি পর্যালোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক রায়ের পর ভারতের সংযত প্রতিক্রিয়া এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সূক্ষ্ম পর্যায়ে রয়েছে।