এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: ২৭ই নভেম্বর ২০২৫, ১:১৭ এএম
আজ ২৭ নভেম্বর—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক বেদনাময় অথচ গৌরবমণ্ডিত দিন। শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে স্মরণ করার দিন।
১৯৯০ সালের সেই অগ্নিগর্ভ নভেম্বর। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ছিল পুরো দেশ। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের একটাই দাবি—গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও। ঠিক এমন সময় স্বৈরশাসক এরশাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাঙ্গণে গুলি করে হত্যা করে এক অকুতোভয় চিকিৎসক, শিক্ষক এবং সংগ্রামীর—ডা. মিলনকে।
শুধু একজন ডাক্তার হিসেবে নয়, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব, ছিলেন জাসদের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তার চিন্তা ছিল দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তার স্বপ্ন ছিল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। নিজের নিরাপত্তার কথা একবারও ভাবেননি; ভাবতেন দেশ, দেশের মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা।
ডা. মিলনের মৃত্যুর পর পুরো দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। তার রক্তে যেন সেদিন আন্দোলন নতুন শক্তি পায়। মানুষের রোষ, ব্যথা, ক্ষোভ একসূত্রে মিলিত হয়। তার আত্মদান স্বৈরাচারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। কয়েক দিনের মধ্যেই স্বৈরশাসক পতন ঘটে—আর গণতন্ত্র পথ খুঁজে পায় মুক্তির আলো।
আজ তার ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শুধু একজন শহীদকে স্মরণ করছি না; স্মরণ করছি এক আলোকবর্তিকাকে, যিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন—মানুষের অধিকারের জন্য, সত্যের জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য আত্মত্যাগই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অধ্যায়।
শ্রদ্ধা তোমার প্রতি, মিলন ভাই—
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে,
তোমার নাম উচ্চারিত হবে সম্মান ও কৃতজ্ঞতায়।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
লেখকঃ সম্পাদক ও প্রকাশক – খবরওয়ালা ও জি লাইভ ২৪
মন্তব্য