খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সুষম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে না পারায় বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরনের বাণিজ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি–ভুল, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এ সংকটকে আরও গভীর করেছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতাও এ হুমকিকে বাড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রথমে ঘনিষ্ঠ থাকলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার কারণে চীন সতর্ক অবস্থানে গেছে। এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে চীন এখনো লিখিত নিশ্চয়তা দেয়নি। দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং স্থলপথে বাণিজ্য বাধায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে; যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিতে—বিশেষত চাল কেনায়, যা এখন সিঙ্গাপুর থেকে বেশি দামে আনতে হচ্ছে।
জাপানের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব সুবিধা বাংলাদেশ দিচ্ছে, সেগুলোর সমপরিমাণ সুবিধা দাবি করছে টোকিও। ফলে সম্ভাব্য ইপিএ চুক্তি আটকে আছে।
সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে বোয়িংয়ের বিমান কেনার প্রতিশ্রুতির পর ইউরোপের পক্ষ থেকে আগের এয়ারবাস কেনার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চাপ বাড়ছে। জার্মান রাষ্ট্রদূত সতর্ক করেছেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস সুবিধা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তগুলো শুধু বর্তমান বাণিজ্যকে নয়, ভবিষ্যৎ সরকারকেও বড় সংকটে ফেলতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।
খবরওয়ালা/টিএসএন