খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে একটি বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি করার সময় ঘটনার মূল নায়িকা আয়েরাশী আক্তারকে (২০) ধরা পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ধরা পড়ার সময় আয়েরাশী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজা (৪৮) ও তাঁর কন্যা নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছুড়ি দিয়ে দুজনকেই কুপিয়ে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েরাশী হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম আজ বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, লায়লা আয়েরাশীকে ধরা পড়লে থামানোর চেষ্টা করেন। আতঙ্কিত হয়ে আয়েরাশী মা-মেয়েকে হত্যা করার ভয়ঙ্কর পদক্ষেপে যান।
আজ সকালে আয়েরাশীকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়ারচর থেকে তার স্বামী জামাল সিকদারসহ (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জামাল একই এলাকার বাসিন্দা, আর আয়েরাশী নরসিংদীর সলিমগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে। হত্যাকাণ্ডের পর আয়েরাশী স্বামীকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি কয়ারচরে পালিয়ে যান।
জামাল সিকদারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আয়েরাশীর মূল উদ্দেশ্য মা-মেয়েকে হত্যা করা ছিল না। তিনি শুধুমাত্র চুরি করা স্বর্ণালংকার ও মালামাল নিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন। লায়লা তাকে পেছন থেকে ধরে ধরলে আতঙ্কে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
মোহাম্মদপুর থানায় মামলার বাদী আ জ ম আজিজুল ইসলাম, যিনি লায়লার স্বামী ও নাফিসার বাবা। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড সোমবার সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আয়েরাশী মাত্র চার দিন আগে বাসায় কাজ শুরু করেছিলেন। প্রতিদিনই তিনি বোরকা বা মুখ ঢেকে বাসায় যাতায়াত করতেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিনও তিনি বোরকা পরে বাসায় প্রবেশ করেন এবং বের হওয়ার সময় নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে ছিলেন।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় আতঙ্কিত। পুলিশ হত্যার পুরো কারণ, মানসিক অবস্থা এবং চুরি সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করতে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে ঘটনার সঙ্গে চুরির পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে।