খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আড়ংঘাটায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আরেকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শলুয়া বাজার এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আড়ংঘাটা থানার ওসি শাহজাহান আহমেদ সংবাদটি নিশ্চিত করেন।
নিহত সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) শলুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তিনি স্থানীয় শলুয়া বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। মিলন স্থানীয় ‘বর্তমান সময়’ নামের নিউজ পোর্টালও পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয় মোহাম্মদ বজলুলের ছেলে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন স্থানীয় পশুচিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাস। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি জানান, মিলন শলুয়া বাজারে জনতা ব্যাংকের পাশে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সন্ত্রাসী এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি দেবাশীষ বিশ্বাসের মাথায় লাগে। তিনি সরে গেলে সন্ত্রাসীরা দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে মিলনের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে একাধিক গুলি চালায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত মিলন ও দেবাশীষকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দেবাশীষের চিকিৎসা চলছে।
ওসি আরও জানান, “অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনার পরিসর ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
নিহতের পরিবার, সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, “মিলন ছিলেন সংবাদপত্র ও পোর্টালের মাধ্যমে সমাজের দায়িত্বশীল কণ্ঠস্বর। তার হত্যার ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বড় আঘাত।”
নিম্নে নিহত সাংবাদিক ও আহত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহত | ইমদাদুল হক মিলন, বয়স ৪৫, শলুয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি |
| পেশা | সাংবাদিক, ‘বর্তমান সময়’ নিউজ পোর্টাল পরিচালক, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক |
| আহত | দেবাশীষ বিশ্বাস, স্থানীয় পশুচিকিৎসক |
| ঘটনা স্থান | শলুয়া বাজার, আড়ংঘাটা, ডুমুরিয়া, খুলনা |
| সময় | বৃহস্পতিবার রাত ৯:৩০ মিনিট |
| ঘটনার ধরন | মোটরসাইকেলে এসে গুলি চালানো, ইমদাদুল হক হত্যা |
| তদন্ত | থানায় মামলা রুজু, অভিযান ও আলামত সংগ্রহ চলছে |
ডুমুরিয়া থানার পুলিশ ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।



