খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের স্বল্পমেয়াদি ভিসা প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। ঢাকায় চীনের দূতাবাস মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, একটি ঘোষণা প্রকাশ করে জানায় যে স্বল্পমেয়াদি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের আর আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) জমা দিতে হবে না। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজতর করা এবং ভ্রমণকে দ্রুততর করা।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় ১৮০ দিনের মধ্যে চীনে থাকা সংক্রান্ত স্বল্পমেয়াদি ভিসার জন্য প্রযোজ্য। এই নিয়মটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা বিশেষ ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে যেমন D, J1, Q1, S1, X1 এবং Z ভিসা বা আবাসন অনুমতি, আগের শর্তগুলোই প্রযোজ্য থাকবে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা দিতে হবে।
দূতাবাস জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনে যাত্রা করা আরও সুবিধাজনক এবং সময়োপযোগী হবে। ভিসা আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আপডেট সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহী নাগরিকরা সরাসরি ঢাকার চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
নিম্নলিখিত টেবিলে নতুন নিয়ম ও প্রযোজ্য ভিসার ধরনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| ভিসার ধরন | সর্বোচ্চ মেয়াদ | ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবশ্যকতা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| স্বল্পমেয়াদি (সব ধরনের) | সর্বোচ্চ ১৮০ দিন | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অব্যাহতি | সাধারণ পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য |
| D, J1, Q1, S1, X1, Z | যে কোনো মেয়াদ | বাধ্যতামূলক | দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বা আবাসন অনুমতির জন্য প্রযোজ্য |
দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, এই পরিবর্তনের ফলে আবেদনকারীরা দ্রুত ভিসা পেতে পারবেন, যা সময়নির্ভর ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করবে। বিশেষ করে পর্যটক ও ব্যবসায়ী যাত্রীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে যে, আবেদনকারীরা ভিসা সেন্টারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন যাতে যেকোনো আপডেট বা অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে তা অবিলম্বে করা যায়। এই নতুন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ থেকে চীনে ভ্রমণের সামগ্রিক কার্যকারিতা উন্নত করবে, যা ব্যবসা, শিক্ষা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
নতুন এই নিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনে যাত্রা করা এখন আরও সহজ, দ্রুত এবং সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও প্রসারিত করবে।