খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে পৌষ ১৪৩২ | ২৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী অঞ্চলে সাপের কামড়ের ঘটনা সম্প্রতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ বছর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ সাপের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে গ্রামীণ ও কৃষি এলাকায় প্রকট হয়ে উঠেছে, যেখানে মানুষ ঘাসফুস, খোলা মাঠ ও জঙ্গলি অঞ্চলে কাজ করেন।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন হেফজুল হক নামে এক কৃষক। সম্প্রতি চারঘাট বাজারে তিনি জানান, “ভাই, আমাকে চিনতে পারলেন না? আমার গালে কামড় দিয়েছিল রাসেলস ভাইপার।” হেফজুল হক সাপটি মারা ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যান এবং তিন দিনের চিকিৎসার পর সুস্থ হন। পরে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডাঃ আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে এই প্রতিবেদকও দেখা করেন।
রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১,৪৯০ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। আগের বছরের তুলনায় রোগীর সংখ্যা ১১৭ জন বেশি, আর মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জন বেড়ে গেছে।
| তথ্য | সংখ্যা | পরিবর্তন (গত বছর তুলনায়) |
|---|---|---|
| ভর্তি রোগীর সংখ্যা | ১,৪৯০ জন | +১১৭ জন |
| মৃত্যু | ৫১ জন | +১১ জন |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
পরিবেশগত পরিবর্তন: পাহাড়ি ও জলাভূমি এলাকা শুকিয়ে যাওয়া, যেখানে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
মানব ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি: কৃষিকাজ ও বনের নিকটে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাপের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ঘটছে।
সাপের প্রজাতি পরিবর্তন: রাসেলস ভাইপার এবং অন্যান্য বিষধর প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কামড়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব: গ্রামের মানুষরা প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রতিষেধক সরবরাহে দেরি করছেন, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
ডাঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, “সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে যদি জনগণ সচেতন না হয় এবং আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেয়। প্রত্যেক সাপের কামড়ই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, মানুষকে সাপের আবাসস্থলের থেকে দূরে থাকতে হবে, আবহাওয়াসূচক সতর্কতা মেনে চলতে হবে এবং বিশেষ করে রাসেলস ভাইপার, করাতী ও অন্যান্য বিষধর সাপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে গ্রামীণ এলাকায় প্রতিষেধক সরবরাহ ও সাপ সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলে সাপের কামড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা সাধারণ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক সতর্কতা, দ্রুত চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।