খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অত্যন্ত শক্তিশালী ২৪টি বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বিস্ফোরক ডেটোনেটর জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা চারাগাঁও বিওপির একটি চৌকস টহল দল এই উদ্ধার অভিযানটি পরিচালনা করে। সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ পথে আনা এই বিস্ফোরকগুলো নাশকতামূলক কোনো বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, চারাগাঁও সীমান্তের মাইজহাটি নামক এলাকায় কিছু সন্দেহভাজন বস্তুর উপস্থিতির খবর পায় বিজিবির গোয়েন্দা শাখা। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত সেখানে পৌঁছালে ঝোপঝাড়ের আড়ালে গাছের ডালপালা ও লতাপাতা দিয়ে সুকৌশলে ঢাকা অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেট উদ্ধার করে। প্যাকেটটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খোলার পর ভেতর থেকে ২৪টি উন্নত মানের ইলেকট্রিক ডেটোনেটর পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত এই সরঞ্জামগুলো মূলত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইমপ্রুভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা হাতে তৈরি শক্তিশালী বোমা তৈরিতে প্রাইমার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও জব্দকৃত বিস্ফোরকের বিস্তারিত তথ্য নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট | চারাগাঁও বিওপি, সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। |
| অভিযানের স্থান | মাইজহাটি এলাকা, তাহিরপুর সীমান্ত, সুনামগঞ্জ। |
| জব্দকৃত সরঞ্জাম | ২৪টি ইলেকট্রিক বিস্ফোরক ডেটোনেটর। |
| সরঞ্জামের ধরন | উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি তৈরির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। |
| উদ্ধারকৃত অবস্থা | পরিত্যক্ত ও লতাপাতা দিয়ে লুকানো অবস্থায়। |
| সম্ভাব্য উদ্দেশ্য | নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি। |
| বর্তমান অবস্থান | স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। |
বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত ডেটোনেটরগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পন্ন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং কোনো জনবহুল স্থানে নাশকতামূলক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে চোরাকারবারিরা এগুলো সীমান্ত দিয়ে পাচার করে এনেছিল। সাধারণত খনি বা পাথর ভাঙার কাজে এগুলো ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে অপরাধী চক্র এগুলো দিয়ে শক্তিশালী দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরি করে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র এবং এই ধরনের বিপজ্জনক বিস্ফোরক পাচার রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জব্দকৃত বিস্ফোরকগুলো বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।