খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম শহর চৌমুহনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আকস্মিক হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত ‘রাবেয়া প্রাইভেট হাসপাতাল’-এ এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। হামলার সময় আতঙ্কিত রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রাণ বাঁচাতে হাসপাতালের বিভিন্ন দিকে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন, যা পুরো এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অতর্কিত এই হামলায় হাসপাতালের তিনজন নার্স ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. আবু নাছের ওটিতে একজন রোগীর অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল কোনো কারণ ছাড়াই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিসেপশন কাউন্টার, অপেক্ষমাণ কক্ষের আসবাবপত্র এবং অত্যন্ত মূল্যবান রোগ নির্ণয়কারী যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করতে শুরু করে। হামলাকারীরা কেবল ভাঙচুরই করেনি, বরং হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টার থেকে মোটা অংকের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই সহিংস ঘটনায় আহতরা হলেন— ষাটোর্ধ্ব কর্মচারী রতন দেবনাথ, তোফাজ্জল হোসেন (৪০) এবং আয়া শাহীনুর আক্তার (৪৫)। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালেই ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডা. আবু নাছের জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ডা. রাবেয়া খানম বিগত ৩০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে এই জনপদে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তাদের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে বড় কোনো চিকিৎসাগত ত্রুটি বা রোগীর মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও কেন এই সুপরিকল্পিত হামলা হলো, তা নিয়ে তিনি চরম বিস্ময় ও নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করেছেন।
| হামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য | বিস্তারিত প্রতিবেদন |
|---|---|
| আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের নাম | রাবেয়া প্রাইভেট হাসপাতাল |
| ভৌগোলিক অবস্থান | কলেজ রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী |
| হামলার সময়কাল | সোমবার সন্ধ্যা ১৯:৩০ ঘটিকা |
| অভিযুক্ত হামলাকারীর সংখ্যা | ৫০ থেকে ৬০ জন সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত |
| আহতের বিবরণ | ৩ জন হাসপাতাল কর্মী (রতন, তোফাজ্জল ও শাহীনুর) |
| আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ | আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকার অধিক |
| গৃহীত আইনি পদক্ষেপ | ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা |
ডা. আবু নাছের আরও দাবি করেন যে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের অনেকের চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে। এই ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় হাসপাতালের প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন সহিংসতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।